ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্প
ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই সহায়তা বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা জানান। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে দেশটির আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে।
নির্বাচনী রাজনীতির প্রভাব
ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক সমালোচনার অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণাতেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ট্রাম্পের আশঙ্কা, ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক সহায়তার বিষয়টি ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী প্রচারে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। তাই সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক সমালোচনার সুযোগ কমাতে চাইছেন তিনি।
‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ সমর্থকদের অবস্থান
ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা বন্ধের পক্ষে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘ম্যাগা’ আন্দোলনের সমর্থকদের একটি অংশেরও সমর্থন রয়েছে।
তাদের যুক্তি, মার্কিন করদাতাদের অর্থ বিদেশি রাষ্ট্রকে দেওয়ার পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা উচিত। ট্রাম্পও সহায়তা বন্ধের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মার্কিন অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং দুই দেশের সম্পর্কে এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
🗂️ Category
আন্তর্জাতিক
