মোহাম্মদ মাসুদ : রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে সরকারবিরোধী চক্রের সম্পৃক্ততার সন্দেহ পুলিশের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের মধ্যে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহের কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।
রোববার দুপুরে মিরপুর এলাকার সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি ওই বোর্ডের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিষয়টি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এরপরও বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছাড়েননি।
মহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ধারণা, শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র যুক্ত হয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি জানাননি।
সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিল পুলিশ
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার জানান, পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘ সময় ধরে চলা অবরোধের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ কমানো এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা।
তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে লাঠিচার্জ করা হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ
বিক্ষোভের সময় কয়েকজন সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক পরিষ্কার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা ওই কাজে বেশি মনোযোগী ছিলেন। কারও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অন্যায় হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
মিরপুরে যান চলাচল স্বাভাবিক
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর মিরপুর এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে পরিস্থিতি যাতে আবার উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য ওই এলাকায় অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাকশ্রমিকেরা।
অবরোধের কারণে ওই এলাকার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা।
বর্তমানে মিরপুর এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত দাবি এবং চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে সরকারবিরোধী চক্রের সম্পৃক্ততার সন্দেহ পুলিশের
Category:
জাতীয়
রাজধানী
মিরপুর, শ্রমিক বিক্ষোভ, পোশাকশ্রমিক, শ্রমিক আন্দোলন, মজুরি, ন্যূনতম মজুরি, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, ডিএমপি, ঢাকা, পুলিশ, শ্রমিকদের দাবি
