ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে সংঘর্ষ: ঘটনাস্থলের বাস্তব অভিজ্ঞতা
শুক্রবার বিকেলটা রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল এলাকার জন্য একেবারেই স্বাভাবিক ছিল না। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো পরিস্থিতি যেন ধীরে ধীরে সংঘর্ষের দিকে গড়াতে দেখা যায়।
বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। তাদের মূল দাবি ছিল শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করা। তবে শুরু থেকেই পরিস্থিতি কিছুটা টানটান ছিল, কারণ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় আগে থেকেই বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা ছিল।
প্রথমদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ করতে দেখা যায়নি। কিন্তু সময় যত এগোয়, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে।
এরপরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। সেই মুহূর্তে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে ছুটাছুটি করতে দেখা যায়, কেউ আশ্রয় খুঁজছিল, আবার কেউ আহতদের সাহায্য করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে।
এই সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে জানা যায়, মোট ২৩ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের কারও শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি এবং পুরো পরিস্থিতি আইনানুগভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার আবারও জানায়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সরকার আরও জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। সরকার সবাইকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে।
ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভারসাম্য বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই—সহিংসতা নয়, বরং শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।
#ইনকিলাবমঞ্চ, #রাজনৈতিকসংঘর্ষ, #ঢাকাসংবাদ, #বাংলাদেশরাজনীতি, #বিক্ষোভকর্মসূচি, #পুলিশঅভিযান, #অন্তর্বর্তীসরকার, #নির্বাচন২০২৬, #সমসাময়িকখবর, #রাজধানীঘটনা
