Advertisement

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তিন শীর্ষ নেতার নাম আলোচনায়


                                নেতৃত্ব সংকট-----আওয়ামী লীগ-----শেখ হাসিনা


যে কারণে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন করে আলোচনায় তিন শীর্ষ ব্যক্তি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, দলীয় কর্মী ও সাধারণ পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এখন প্রধান প্রশ্ন— দলের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, নাকি দলটি বর্তমান দুর্বল অবস্থায়ই টিকে থাকার চেষ্টা করবে?

নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা–কল্পনা

রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচনায় উঠে এসেছে তিনটি নাম—

  1. ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী (সাবেক স্পিকার)

  2. সাবের হোসেন চৌধুরী (সাবেক মন্ত্রী)

  3. সেলিনা হায়াৎ আইভী (নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র)

বিশ্লেষকদের মতে, এদের বিরুদ্ধে তেমন গুরুতর অভিযোগ নেই—ফলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তাদের নাম সামনে আসছে।

তবে দলীয় সূত্র বলছে, এসব আলোচনা এখনো পুরোপুরি নির্ভর করছে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেতের’ ওপর। তিনি সম্মতি না দিলে কেউই সামনে আসতে চান না।




শিরীন শারমিন চৌধুরী: আলোচনার কেন্দ্রে

সূত্র জানায়, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে সম্ভাব্য প্রথম নাম হিসেবে বারবার উঠে আসছে সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম।
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে সক্রিয় নন। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তিনি সরকারের নজরদারিতে আছেন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়ানোর জন্য তার প্রয়োজন হতে পারে—এ কারণেও তার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে আলোচনা।





সাবের হোসেন চৌধুরী: ক্লিন ইমেজের নেতা

সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি সাবের হোসেন চৌধুরী।
গ্রেফতার হলেও তিনি পরে জামিনে মুক্ত। বর্তমানে দৃশ্যত রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়।
তবে তার বাসায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সাম্প্রতিক বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি—শেখ হাসিনার সিগন্যাল ছাড়া তিনি কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেবেন না।




সেলিনা হায়াৎ আইভী: কারাগারে থেকেও আলোচনায়

নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীও আলোচনায় রয়েছেন।
যদিও তিনি এখনো কারাগারে। কিছু মামলায় জামিন পেলেও সম্প্রতি হত্যাসহ পাঁচ মামলায় নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।


আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের পর দলটি সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতায় পড়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রচলিত ধারণা হলো—

  • শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগ

  • খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপি

  • এরশাদের বংশধর ছাড়া জাতীয় পার্টি

এগুলো কল্পনা করা কঠিন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি দলটিকে নতুন নেতৃত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ড. জাহেদ উর রহমানের বিশ্লেষণ

তার মতে:

  • আইনগতভাবে নিষিদ্ধ না হলেও, মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা অসম্ভব।

  • তার বয়সও নেতৃত্ব দেওয়ার পক্ষে অনুকূল নয়।

  • ফলে নেতৃত্ব পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।

  • শেখ হাসিনা আগেই বিদেশি গণমাধ্যমকে বলেছেন যে—
    “আমার পরিবারের কাউকে দল পরিচালনা করতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই।”

এ কারণে শিরীন শারমিন, সাবের হোসেন বা আইভীর মতো তুলনামূলক পরিষ্কার-ইমেজ নেতারা সামনে আসতে পারেন।


আলতাফ পারভেজের পর্যবেক্ষণ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন—
জুলাই–আগস্টের ঘটনাবলীর দায় এড়াতে পারবে না আওয়ামী লীগ।
তাদের রাজনীতি চালাতে হলে—

  • ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হবে

  • জবাবদিহি করতে হবে

  • পাশাপাশি নির্দোষ নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে

তার মতে,
বিচারও চলবে, আবার নির্দোষদের রাজনীতি করার সুযোগও থাকতে হবে—দলটির টিকে থাকার জন্য এটাই একমাত্র ভারসাম্যপূর্ণ পথ।


আওয়ামী লীগ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে নেতৃত্ব, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কৌশল—সবই অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
দলের পরবর্তী গন্তব্য অনেকটাই নির্ভর করছে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আদালতের প্রেক্ষাপটের ওপর।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনও নজর রাখছে—এই তিন সম্ভাব্য নেতার মধ্যে কে সামনে আসবেন, নাকি দলটি নতুন কোনো চমক দেখাবে।


Featured 

আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সংকট ও তিন সম্ভাব্য নেতার নাম নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ