🔷
ইরান বিক্ষোভ, খামেনি শাসন, ইরান অর্থনৈতিক সংকট
উত্তাল ইরান: খামেনি শাসন কি টিকবে
ইরানে ঘুরেফিরে যে বিক্ষোভ দেখা দিচ্ছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা, পররাষ্ট্রনীতি এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার সম্মিলিত প্রভাবই এসব অস্থিরতার মূল কারণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব উপাদান একদিকে যেমন জনঅসন্তোষ তৈরি করছে, অন্যদিকে রাষ্ট্র কীভাবে সেই অসন্তোষের জবাব দেবে, সেটিও নির্ধারণ করছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিক্ষোভের সূচনা
গত বছরের শেষ দিকে ইরানের বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল ব্যবসায়ী ও বাজারের দোকানিদের ধর্মঘট থেকে। দ্রুত কমে যাওয়া ক্রয়ক্ষমতা সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করে। মূল্যস্ফীতির চাপে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।
একই সঙ্গে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭.৫ শতাংশে। এই অর্থনৈতিক চাপ নতুন নয়।
২০০৮ সালে মূল্য সংযোজন কর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় তেহরানের বাজার এলাকায় বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়, যার মুখে সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।
২০১০ সালেও আয়কর বৃদ্ধির প্রস্তাব ঘিরে সীমিত প্রতিবাদ দেখা যায়।
➡️ https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
[ইরানের অর্থনৈতিক ইতিহাস ও আগের আন্দোলনগুলো]
সামাজিক স্বাধীনতা ও হিজাব বিতর্ক
ইরানের আন্দোলনগুলোতে অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি সামাজিক স্বাধীনতার প্রশ্নও বারবার উঠে এসেছে। বাধ্যতামূলক হিজাব আইন দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় বিতর্কের বিষয়।
২০২২ সালে ২২ বছর বয়সী মাসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ভয়াবহ বিক্ষোভের জন্ম দেয়। কর্তৃপক্ষ যখন ঘটনার দায় ভুক্তভোগীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করে, তখন জনরোষ আরও তীব্র হয়।
➡️ https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
[মাসা আমিনি ও ইরানের হিজাব আন্দোলন]
নিষেধাজ্ঞা বনাম শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা
ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য কতটা দায় নিষেধাজ্ঞার, আর কতটা দায় সরকারের ব্যর্থ শাসনব্যবস্থার—এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।
১৯৮০ সালের পর থেকে ইরানের অর্থনীতিতে কাঠামোগত সংস্কার কার্যত থেমে আছে। বিপ্লবী আদর্শ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি গড়ে ওঠেনি।
এ ছাড়া অর্থনৈতিক ও আর্থিক আইনকানুন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় ইরান ক্রমশ বৈশ্বিক বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ব্যর্থ সংস্কার ও আন্তর্জাতিক চাপ
১৯৯৭–২০০৫ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি তেলনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থনীতির প্রস্তাব দিলেও তা সফল হয়নি।
২০০৫–২০১৩ সালে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের জনতাবাদী নগদ সহায়তা কর্মসূচিও প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যর্থ হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা তেল বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইরানের প্রবেশ কঠিন করে তোলে।
➡️ https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
[ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস]
চীন-রাশিয়ার সঙ্গেও সমাধান আসেনি
চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের ৪০০ বিলিয়ন ডলারের কৌশলগত চুক্তি এবং রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বও ইরানের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি।
এই বাস্তবতা দেখিয়েছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু বিকল্প অংশীদার দিয়ে সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
নেতৃত্বের স্বীকারোক্তি ও বাড়তে থাকা ঝুঁকি
২০২৫ সালের পর প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, বর্তমান সংকটের জন্য শুধু নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করা যায় না। এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয়, শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতাই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে।
তবে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিক্ষোভের জন্য বিদেশি ষড়যন্ত্রকে দায়ী করছে। এই দ্বৈত ব্যাখ্যা রাষ্ট্রের ভেতরেই বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে এবং সরকার ও জনগণের দূরত্ব আরও গভীর করছে।
সামনে কি সরকার পরিবর্তনের ঝুঁকি?
ইতিহাস বলছে, সরকার টিকে থাকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে দমননীতি আরও কঠোর হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে যুদ্ধের আশঙ্কা ইরানের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ধীরে ধীরে তা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দিকেও যেতে পারে—এই সম্ভাবনাও আর উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
➡️ https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
[মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূরাজনৈতিক ভবিষ্যৎ]
🔷 Tags / Hashtags
#ইরান
#খামেনি
#ইরান_বিক্ষোভ
#ইরান_অর্থনীতি
#MiddleEastPolitics
#IranProtests
উত্তাল ইরান: খামেনি শাসন কি টিকবে নাকি পরিবর্তনের মুখে দেশটি
উত্তাল ইরান: খামেনি শাসন কি টিকবে নাকি পরিবর্তনের মুখে দেশটি


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ