Advertisement

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক কি নতুন পথে ফিরবে? নির্বাচন, কূটনীতি ও বাস্তবতার বিশ্লেষণ




Focus Keyword;বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক


বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক কি পুনর্গঠন সম্ভব?

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতার পরও দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট এখন প্রকাশ্য। প্রশ্ন উঠছে—এই সম্পর্ক কি নতুন করে পুনর্গঠিত হতে পারে, নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতা তা আরও জটিল করে তুলবে?

ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত “India-Bangladesh Tensions Reach a Boiling Point” শীর্ষক বিশ্লেষণে আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান এই প্রশ্নের দিকেই আলোকপাত করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণ শুধু কূটনৈতিক আচরণ নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনীতি, নির্বাচন ও জনমতের দিকগুলোকেও যুক্ত করেছে।


সম্পর্কের অবনতির সূচনা: রাজনৈতিক পটপরিবর্তন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে দৃশ্যমান টানাপড়েন শুরু হয়। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশটি যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন এই উত্তেজনা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে। অন্যদিকে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, শেখ হাসিনার পতনের ফলে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ এখানে পড়ুন (Internal Link)


ক্রিকেট থেকে কূটনীতি: উত্তেজনার প্রতীকী রূপ

এই টানাপড়েন কেবল কূটনৈতিক বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকার আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে, যা এই অঞ্চলে নজিরবিহীন। সিদ্ধান্তটি আসে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাংলাদেশি তারকা মোস্তাফিজুর রহমানকে হঠাৎ বাদ দেওয়ার পর।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ঘোষণা দেয়, তারা আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতে খেলবে না। দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেট যেখানে সাধারণত সংযোগের প্রতীক, সেখানে এসব সিদ্ধান্ত সম্পর্কের গভীর সংকটকেই প্রকাশ করে।

👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
বাংলাদেশ–ভারত ক্রিকেট সম্পর্কের ইতিহাস (Internal Link)


শেখ হাসিনা, ভারত এবং বিতর্কিত আশ্রয়

ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, তাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে এবং ঢাকার একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তাকে প্রত্যর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বাংলাদেশে এটি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নভেম্বরে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে একটি বাংলাদেশি আদালত তাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এই ঘটনাপ্রবাহ দুই দেশের মধ্যে আস্থার দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে।


বিএনপি ও ভারতের নতুন বার্তা

এই জটিল প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ছেলে তারেক রহমানকে সমবেদনা জানান। ঢাকায় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এই ঘটনাগুলোকে অনেক বিশ্লেষক বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সরকারের প্রতি ভারতের কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখছেন। যদিও অতীতে বিএনপি–ভারত সম্পর্ক ছিল টানাপড়েনপূর্ণ, বর্তমান বাস্তবতায় দলটি দিল্লির কাছে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
বিএনপি ও ভারতের সম্পর্ক: অতীত থেকে বর্তমান (Internal Link)


আপসের সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি

তবে বাস্তবতা সহজ নয়। বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বড় অংশ ভারতের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার বিরোধী। ফলে নতুন সরকারের জন্য কূটনৈতিক সমঝোতার পরিসর সীমিত হতে পারে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে পারে, তবে তা অবশ্যই “সমঅধিকারভিত্তিক” হতে হবে। তারেক রহমানও মন্তব্য করেছেন যে, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের ভেতরে এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন, ফলে রাজনৈতিক ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা তার বেশি।


উপসংহার: সুযোগ আছে, কিন্তু শর্তসাপেক্ষ

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সেই সুযোগ বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কতটা সাহসিকতার সঙ্গে ঝুঁকি নিতে পারে তার ওপর।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা, সমতা এবং জনগণের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। অন্যথায়, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।


Hashtags

#বাংলাদেশভারতসম্পর্ক #দক্ষিণএশিয়াকূটনীতি #বাংলাদেশনির্বাচন #BNP #IndiaBangladesh #Geopolitics






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ