Advertisement

ট্রাম্পের ইরান কৌশল: ভেনেজুয়েলা মডেলের প্রতিফলন নাকি নতুন গেম প্ল্যান?





 ট্রাম্পের ইরান কৌশল: ভেনেজুয়েলা মডেলের ছায়া নাকি নতুন রণনীতি?


ওয়াশিংটনে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের শেষ শাহের পুত্র **রেজা পাহলভির** সাথে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সরাসরি "না" জল্পনার সূত্রপাত করেছে—ইরানের বর্তমান সরকারকে পরিবর্তনের জন্য কি ট্রাম্প প্রশাসন **"ভেনেজুয়েলা মডেল"** অনুসরণ করতে চলেছে?

একটি সাক্ষাৎকার যা বার্তা দেয়

গত বৃহস্পতিবার, পডকাস্ট সঞ্চালক হিউ হিউইটের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প পাহলভির সাথে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাক্ষাৎ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, *"আমি তাকে দেখেছি, তাঁকে একজন ভালো মানুষ বলেই মনে হয়। কিন্তু এ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর সঙ্গে দেখা করাটা ঠিক হবে কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।"*

বিশ্লেষকদের মতে, এই মৃদু কিন্তু স্পষ্ট অস্বীকৃতি ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে একটি সুনির্দিষ্ট বার্তা। স্টিমসন সেন্টারের **রান্ডা স্লিম** এক্স-এ লিখেছেন, *"ট্রাম্প তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোতে একটি বার্তা পাঠাচ্ছেন। বার্তাটি হলো—ভেনেজুয়েলার দিকে তাকান। খামেনিকে সরিয়ে দিন, আমি চুক্তির জন্য প্রস্তুত।"*

## পাহলভির জরুরি আবেদন ও ভেনেজুয়েলা রোডম্যাপ

ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারের পরের দিনই পাহলভি এক্স-এ ট্রাম্পকে **ইরানের বিক্ষোভে হস্তক্ষেপের** জন্য জরুরি আহ্বান জানান। তিনি লিখেছেন, *"গত রাতে আপনি দেখেছেন, লাখ লাখ সাহসী ইরানি বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাস্তায় লড়াই করেছেন। আজ তাঁরা কেবল বুলেট-ই নয়, বরং সব ধরনের যোগাযোগ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মুখে পড়েছেন।"*

**বিশ্লেষণ:** পাহলভির এই সরাসরি আবেদন ইঙ্গিত দেয় যে, বিদেশে বসবাসকারী বিরোধী নেতারা ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে গৃহীত কৌশলকে একটি সম্ভাব্য নকশা হিসেবে দেখছেন।

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ **আলি আলফনেহ** এর মতে, ভেনেজুয়েলা ইরানের ভেতরে পরিবর্তনকামী গোষ্ঠীর জন্য একটি রোডম্যাপ হতে পারে। তার মডেলটি হল: বর্তমান নেতৃত্ব খামেনিকে সরিয়ে, ট্রাম্পের সাথে যোগাযোগ করে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে পারে—**ক্ষমতার মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখেই**।

## আন্তর্জাতিক আইন নয়, 'নৈতিকতা'ই সীমা

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য তার ফরেন পলিসির দর্শন আরও স্পষ্ট করেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে তিনি বলেছেন, *"আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই।"* তিনি দাবি করেন, তার সামরিক শক্তি ব্যবহারের একমাত্র সীমা হলো তার **"নিজের নৈতিকতা"**—এমন একটি অবস্থান যা মার্কিন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, কারণ যুদ্ধ ঘোষণার একক ক্ষমতা কংগ্রেসের।

এই পটভূমিতে, ইসরায়েলি মিডিয়া এবং মার্কিন সিনেটর **লিন্ডসে গ্রাহামের** মতো ব্যক্তিত্বরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য ইরানই হতে পারে।


## ইরানের ভেতরে কী ঘটছে?


স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, **ইরানের ১১১টি শহরে** জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ১৩ দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। এটি **২০২২ সালের মাসা আমিনি বিক্ষোভের** পর সবচেয়ে বড় আন্দোলন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এ পর্যন্ত ২৫-৪২ জন নিহত এবং হাজার হাজার আটক হয়েছে।


> **প্রাসঙ্গিক পড়ুন:** [ইরানে মহিলা অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস ও বর্তমান সংকট](https://shadhinbangla202.blogspot.com/


গত সপ্তাহে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, *"ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।"*


## উপসংহার: একটি অমীমাংসিত পরীক্ষা

ট্রাম্পের পাহলভি-বিমুখতা এবং ভেনেজুয়েলা স্টাইল-কৌশলের ইঙ্গিত ইরান বিষয়ক ওয়াশিংটনের চিন্তার পরিবর্তন নির্দেশ করে। এটি শুধু সরকার পরিবর্তনের কৌশল নয়, বরং **"নিয়ন্ত্রিত পরিবর্তন"**—যেখানে বর্তমান ব্যবস্থার একটি অংশকে রেখে দিয়েই আপোসের পথ তৈরি করা হতে পারে।

তবে ইরানের জটিল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, প্রবাসী বিরোধী নেতাদের **সীমিত জনসমর্থন**, এবং ট্রাম্পের নিজস্ব "নৈতিকতাভিত্তিক" বৈদেশিক নীতির অনিশ্চয়তা এই সমীকরণকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। ইরানে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে বিশ্ব রাজনীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে।


---

**ট্যাগস:** #ইরান #ট্রাম্প #ভেনেজুয়েলা #বিক্ষোভ #রেজা_পাহলভি #মার্কিন_বৈদেশিক_নীতি

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ