Advertisement

ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান | প্রিয় বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর গণসংবর্ধনায় লাখো মানুষের সমাবেশে বক্তৃতা করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান

“প্রিয় বাংলাদেশ” গড়ার অঙ্গীকার, শান্তি ও ঐক্যের আহ্বান

দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরে লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় তিনি যে ভাষণ দেন, তা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং একটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, “প্রিয় বাংলাদেশ।” এই দুটি শব্দেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার আবেগ, দায়বদ্ধতা এবং প্রত্যাশিত রাষ্ট্রের স্বপ্ন। তিনি জানান, এখন সময় এসেছে সবাই মিলে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার।


শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বারবার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি বজায় রাখতে হবে এবং উসকানির মুখে ধীর-স্থির থাকতে হবে। বিশৃঙ্খলা নয়, বরং দায়িত্বশীল আচরণই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষায়, বাংলাদেশে বসবাসরত মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও হিন্দুসহ সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়েই একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়াই লক্ষ্য, যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা সবাই নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারবে।

👉 আরও রাজনৈতিক সংবাদ পড়ুন:https://shadhinbangla202.blogspot.com/
বাংলাদেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক আপডেট


তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা

তারেক রহমান বলেন, দেশের চার কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশ গঠনের মূল দায়িত্ব তাদের হাতেই থাকবে। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে গেলে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে রাষ্ট্রের কাছে। এই প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা জরুরি।

👉 তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষণ:https://shadhinbangla202.blogspot.com/
বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম ও রাজনীতি


ইতিহাস স্মরণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

তারেক রহমান তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশ বারবার সংকট থেকে বেরিয়ে এসেছে।

২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।

👉 আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জানতে পড়ুন:https://shadhinbangla202.blogspot.com/
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন


ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্কতা

তারেক রহমান বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচররা এখনো বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে এসব মোকাবিলায় আবেগ নয়, প্রয়োজন ধৈর্য, সচেতনতা ও ঐক্য। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।


“I Have a Plan” — জনগণের জন্য পরিকল্পনা

মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক উক্তি “I Have a Dream” উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন,
“I have a plan, for the people of my country, for my country।”

তিনি জানান, এই পরিকল্পনা দেশের উন্নয়ন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি দেশের সব গণতন্ত্রপন্থী মানুষের সহযোগিতা চান।

👉 বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পড়ুন:https://shadhinbangla202.blogspot.com/

বিএনপির রাজনৈতিক রূপরেখা


খালেদা জিয়ার সংগ্রাম ও আবেগঘন বক্তব্য

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আজীবন সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য যিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষদের পাশে থাকাই তার দায়িত্ব।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে বিশৃঙ্খলা পরিহার করতে হবে এবং দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সবার।


ঐক্যের ডাক ও কৃতজ্ঞতা

সবশেষে তারেক রহমান বলেন,
“সবাই মিলে করব কাজ, গড়ব মোরা বাংলাদেশ।”

গণসংবর্ধনায় অংশ নেওয়া লাখো মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঐক্য, শান্তি ও গণতন্ত্রই হবে আগামীর বাংলাদেশের ভিত্তি।


🏷️ 

Category: বাংলাদেশ, রাজনীতি
Tags: তারেক রহমান, বিএনপি, গণসংবর্ধনা, বাংলাদেশ রাজনীতি, গণতন্ত্র, নিরাপদ বাংলাদেশ



 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ