দেশে ফেরার জন্য কেন ২৫ ডিসেম্বর বেছে নিলেন তারেক রহমান, জানালেন মাহদি আমিন
দীর্ঘ দেড় যুগ পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তনের দিন হিসেবে কেন ২৫ ডিসেম্বর নির্বাচন করা হলো, তা নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি তারেক রহমানের দেশে ফেরা, কর্মসূচি এবং আয়োজন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
ড. মাহদি আমিন লেখেন, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়; এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং গণতন্ত্রপ্রত্যাশী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এ উপলক্ষে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগ লক্ষ করা যাচ্ছে।
পরিবারের সঙ্গে একই ফ্লাইটে প্রত্যাবর্তন
ড. মাহদি আমিনের তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের সঙ্গে একই ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
কখন ঢাকায় পৌঁছাবেন
তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটটি ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। অবতরণের পরপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে।
দিনের কর্মসূচি
স্বদেশে ফিরেই তারেক রহমানের প্রধান অগ্রাধিকার হবে তার অসুস্থ মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। তিনি বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিমানবন্দর থেকে হাসপাতাল যাওয়ার পথে রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশবাসীর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। এরপর সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে দেশনেত্রীর পাশে অবস্থান করবেন এবং সেখান থেকে গুলশানে নিজ বাসভবনে যাবেন।
👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা
কেন ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে বেছে নেওয়া হলো
ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া এভিনিউয়ের মতো ঐতিহাসিক স্থান থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে সেসব স্থান এড়িয়ে ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে নির্বাচন করা হয়েছে। এর মূল কারণ জনদুর্ভোগ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা।
রাজধানীর একপাশে অবস্থিত এই প্রশস্ত সড়কের শুধু একটি সার্ভিস লেন অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা হবে, যাতে নগরীর মূল সড়কগুলোতে যানজট সৃষ্টি না হয়।
ড. মাহদি আমিন স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনো জনসভা বা আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা নয়। এখানে তারেক রহমান একমাত্র বক্তা হিসেবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন। উদ্দেশ্য কেবল দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে দোয়া কামনা।
জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ
জনসাধারণের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ঢাকাজুড়ে ২০টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ক্যাম্পে চিকিৎসক, প্যারামেডিক, ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।
এছাড়া বক্তব্যস্থলের কাছে ছয় শয্যার একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হবে, যেখানে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সংযুক্ত থাকবে। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, মোবাইল টয়লেট এবং কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন।
👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিস্তারিত
যানজট ও জরুরি চলাচল ব্যবস্থাপনা
বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রী, রোগী পরিবহন এবং জরুরি যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাকলী মোড়, বিমানবন্দর এলাকা ও আব্দুল্লাহপুরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে। সেখান থেকে মোটরবাইক এসকর্টের মাধ্যমে জরুরি যান চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
তারপরও অনিচ্ছাকৃত কোনো অসুবিধা হলে নগরবাসীর কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে আগাম দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
কেন ২৫ ডিসেম্বর নির্বাচন
ড. মাহদি আমিন জানান, জনভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেই সরকারি ছুটির দিন ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পরপরই আরও দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় টানা তিন দিনের ছুটি থাকবে, যা যানজট ও নাগরিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
নেতাকর্মীদের জন্য নির্দেশনা
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা উত্তেজনা সৃষ্টি না করতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ আচরণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
অনেকের মতে, তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জাতীয় ঐক্য গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই প্রত্যাবর্তন তাই কেবল ব্যক্তিগত নয়; বরং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষে জনগণের গভীর প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ
#তারেক_রহমান
#বিএনপি
#স্বদেশ_প্রত্যাবর্তন
#মাহদি_আমিন
#খালেদা_জিয়া
#বাংলাদেশ_রাজনীতি
#জাতীয়_সংবাদ
#গণতন্ত্র
#রাজনৈতিক_সংবাদ


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ