বড়দিনে ভারতে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০টিরও বেশি হামলা, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর গভীর উদ্বেগ
বড়দিনকে কেন্দ্র করে ভারতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বড়দিনের উৎসব পালনে বাধা দেওয়া, খ্রিস্টানদের হেনস্তা করা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হামলার একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
খ্রিস্টধর্মীয় সংগঠনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ক্যাথলিক বিশপস’ কনফারেন্সের কড়া নিন্দা
ভারতের ক্যাথলিক বিশপস’ কনফারেন্স (CBCI) এক বিবৃতিতে জানায়, বড়দিনের মৌসুমে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। সংগঠনটি এসব ঘটনার “কোনো যদি-কিন্তু ছাড়াই” তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিনের প্রস্তুতির সময় এবং উৎসব চলাকালে—
ক্রিস্টমাস ক্যারল গাইতে থাকা শিল্পীদের বাধা দেওয়া
চার্চে প্রার্থনা ও ধর্মীয় সমাবেশে হেনস্তা
বড়দিনের অনুষ্ঠান বন্ধ করার চেষ্টা
এই ঘটনাগুলো ঘটেছে।
👉 সম্পর্কিত প্রতিবেদন পড়ুন:https://shadhinbangla202.blogspot.com/
ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি
চার্চে ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু জায়গায় চার্চে ভাঙচুর, বড়দিনের সাজসজ্জা নষ্ট এবং উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষদের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
নির্যাতিত খ্রিস্টানদের সহায়তায় কাজ করা আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘ওপেন ডোরস’ জানায়, শুধু বড়দিনের সময়েই ভারতজুড়ে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০টিরও বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরের ঘটনা ঘিরে তীব্র সমালোচনা
এই হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরে। সেখানে বড়দিনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা এক দৃষ্টিশক্তিহীন খ্রিস্টান নারীকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির স্থানীয় নেত্রী আঞ্জু ভারঘাভাকে ওই নারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায়। ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বিরোধী দল কংগ্রেস ঘটনাটিকে “বর্বরতা ও নির্মমতার উদাহরণ” বলে আখ্যা দেয়। চাপের মুখে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ভারঘাভাকে শোকজ নোটিশ দিলেও তিনি কোনো ভুল করেননি বলে দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখনো এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি।
👉 আরও পড়ুন:https://shadhinbangla202.blogspot.com/
ভারতের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ইস্যু
ওড়িশা ও দিল্লিতেও হয়রানির ভিডিও
এ ছাড়া ওড়িশা ও দিল্লির দুটি আলাদা ঘটনায়—
সান্তা ক্লজের ক্যাপ বিক্রি করা ব্যক্তিদের হেনস্তা
বড়দিনের পোশাক পরা নারীদের উত্ত্যক্ত
করতে দেখা গেছে। অভিযুক্তরা ‘হিন্দু রাষ্ট্রে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের’ অভিযোগ তুলে এসব আগ্রাসী আচরণ করেছে বলে ভিডিওগুলোতে দেখা যায়।
কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা সংগঠিত উগ্র হিন্দুত্ববাদী মবের সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
ক্যাথলিক বিশপস’ কনফারেন্স ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব হামলা ভারতের সংবিধানে নিশ্চিত করা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকারকে সরাসরি খর্ব করছে।
খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের আইনি অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম জানিয়েছে, চলতি বছরে ভারতে খ্রিস্টানদের ওপর অন্তত ৬০০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ভারতে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর অবস্থান
প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার ভারতে মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ খ্রিস্টান। হিন্দু ও মুসলমানদের পর খ্রিস্টানরা দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী।
মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
#বড়দিন#ভারতে খ্রিস্টান #Christmas Violence India #Human Rights India #Minority Rights#Hindutva Extremism #Religious Freedom #CBCI#Open Doors #United Christian Forum


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ