পাচার হওয়া অর্থ ফেরতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টাপ্রধান উপদেষ্টা চুরি গেছে অর্থ ফেরানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের সাহায্য চান।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম সভার মাঝে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্কে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, বিশ্ব স্বাস্থ্য, সামাজিক উদ্যোগ, খেলাধুলা, শরণার্থী সমস্যা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলো নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সংশোধন, আঞ্চলিক মিলন এবং বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়।
মূল আলোচনার বিষয় ছিল ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের গতি, রাজস্ব ও ব্যাংক খাতের গঠনগত পরিবর্তন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকীকরণ, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একত্রীকরণ এবং এশিয়ার তরুণদের বাড়তে থাকা রাজনৈতিক আগ্রহ। তার সঙ্গে কয়েক বিলিয়ন ডলার চুরি হওয়া দেশের সম্পদ ফেরত আনার জরুরি দরকারও জোর দিয়ে বলা হয়।
অজয় বঙ্গা সাক্ষাতে প্রফেসর ইউনূসের গত ১৪ মাসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ফিরিয়ে আনা এবং স্থিতি শক্ত করায় তার কাজ অসাধারণ। তিনি সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের চলমান সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। এবং যোগ করেন, শক্তিশালী সংস্কার ছাড়া টেকসই উন্নতি সম্ভব নয়।
প্রফেসর ইউনূস বিশ্বব্যাংকের অটল সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসের এই কঠিন সময়ে এ সাহায্য বাংলাদেশকে সঠিক পথে রাখছে। সেই সঙ্গে তিনি চুরি সম্পদ ফেরত আনায় সক্রিয় সাহায্য চান। আর চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিক করতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ির মূল চাবি। আসুন একসঙ্গে এটাকে গড়ে তুলি। প্রফেসর ইউনূস বলেন, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্যও এই আধুনিক বন্দর থেকে লাভবান হবে। এতে লক্ষ লক্ষ লোকের নতুন চাকরি তৈরি হবে। আঞ্চলিক মিলন নতুন উচ্চতায় যাবে।
বৈঠকে অজয় বঙ্গা ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের গঠনগত সংস্কারের দরকার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এগুলোই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়িকে মজবুত ভিত্তি দেবে।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
নিউইয়র্কে প্যারিসের মেয়র অ্যানে হিদালগোর সঙ্গে আরেক বৈঠকে ড. ইউনূস বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে চলা সংস্কার, খেলাধুলা ও সামাজিক ব্যবসা এবং বিশ্ব শরণার্থী সংকট—বিশেষ করে রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
সেই সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়। এটি দেশের গণতন্ত্রে নতুন যুগের শুরু করবে। মেয়র হিদালগো কঠিন সময়ে তার নেতৃত্বে আস্থা দেখান। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তহবিল বাড়ানোর আহ্বান করেন।
সাক্ষাতে দুই নেতা বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কাজ, খেলাধুলা ও অলিম্পিকে সামাজিক ব্যবসার সম্ভাবনা এবং বিশ্ব শরণার্থী সংকট—খাস করে রোহিঙ্গা মানবিক সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এই সময় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সাধারণ নির্বাচন হবে। এটি শুধু নির্বাচন নয়। এটি দেশের গণতন্ত্রে নতুন যুগ শুরু করবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের ভবিষ্যত ঠিক করার মূল ঘটনা হবে। এটি গণতন্ত্রকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেবে।
অধ্যাপক ইউনূস প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিককে সামাজিক ব্যবসায় পরিণত করার নেতৃত্ব দেন। প্রধান উপদেষ্টা ভবিষ্যতের সব অলিম্পিক—বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসেরটাকে কার্বন-মুক্ত করার উপর জোর দেন।
মেয়র হিদালগো কঠিন সময়ে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা দেখান। তিনি বলেন, আমি আপনার নেতৃত্বকে গভীরভাবে সম্মান করি। আপনি অসাধারণ কাজ করেছেন। আপনার প্রতিশ্রুতি মানবতার জন্য অনন্য উদাহরণ হয়েছে।
দুই নেতা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তহবিল বাড়ানোর জরুরি দরকারের উপর জোর দেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত ক্যাম্পগুলোর কথা।


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ