Advertisement

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ



 জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন। ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ তিন আসামির বিরুদ্ধে এই মামলা। ৩৫ জনের সাক্ষ্য আজ শেষ হচ্ছে। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, দশম দিনের মতো সাক্ষ্য গ্রহণ চলে। নবম দিন পর্যন্ত ২৯ জনের জেরা শেষ হয়। আজ আরও ৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এই মামলায় প্রায় ৪০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হতে পারে। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, এমন অভিযোগে জমা পড়েছে ৫০০টির বেশি অভিযোগ। ৫টি মামলায় বিচার চলছে। এসব মামলায় আসামী ৬২ জন। আরও ২৬টি মামলা বিচারাধীন। তিনি বলেন, তিনটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। একটি মামলায় শেখ হাসিনা সহ তিনজন আসামী। চানখাঁরপুলে হত্যা মামলা ও রংপুরে ছাত্র হত্যা মামলাও রয়েছে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ও পুলিশের সাবেক আইজিপি মামুনও আসামী। মামুন কারাগারে আছেন। শেখ হাসিনা ও কামাল পলাতক। আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলাও নেওয়া হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা ছাত্র হত্যায় অভিযোগ দাখিল হয়েছে। এই মামলায় ১১ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ। চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়। ঢাকা পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান সহ আট আসামী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এখন সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই প্রথম মামলাটি হয়। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা আছে। একটি গুম-খুনের ঘটনায়। অন্যটি মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব বিচার হচ্ছে। মামলার অগ্রগতি নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশন সব দিক সমন্বয় করে। তিনি বলেন, বিচার নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রথমবারের মতো বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ সাধারণ খুনের চেয়ে ভিন্ন। এখানে দেড় হাজার লোক খুন হয়েছে। পোস্টমর্টেম হয়নি। পরিবারকে খবরও দেওয়া হয়নি। অজ্ঞাত পরিচয়ে লাশ দাফন করা হয়। শহীদদের পরিবার গোপনে কবর দিয়েছে। তাই তদন্ত জটিল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন সংশোধন করা হয়েছে। আইনটি যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠিত হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ