স্মৃতি ও বিস্মৃতির দোলাচলে রূপপুর: আমরা কি কৃতজ্ঞতা ভুলে যাচ্ছি?
পদ্মা নদীর পাড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিশালাকার কুলিং টাওয়ারগুলো আজ কেবল প্রকৌশলবিদ্যার নিদর্শন নয়, বরং বাংলাদেশের জ্বালানি স্বনির্ভরতার এক জীবন্ত দলিল। যে প্রজেক্টটি কয়েক দশক ধরে কেবল ফাইলবন্দি হয়ে ছিল, তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ছিল এক অসাধ্য সাধন। আর এই অসাধ্য সাধনের প্রধান কারিগর ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভিশন যখন বাস্তব
একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা সহজ ছিল না। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং নানাবিধ প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেখ হাসিনা এই মেগা প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিলেন। আজ যখন রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ আসার সময় ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। তিনি আজ ক্ষমতায় নেই, এমনকি দেশান্তরী হতে হয়েছে তাকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—ব্যক্তি দূরে গেলেই কি তার অবদানও মুছে যায়?
স্বার্থান্বেষী মহল ও প্রচারণার আড়াল
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের দেশের রাজনীতিতে একটি সংস্কৃতি প্রবল—তা হলো পূর্বসূরির কাজকে অস্বীকার করা। বর্তমানে একদল স্বার্থান্বেষী মহল অত্যন্ত সুকৌশলে রূপপুর প্রকল্পের নেপথ্যে থাকা মানুষটির নাম মুছে ফেলার চেষ্টায় লিপ্ত। জনমানুষের আবেগ ও হুজুগকে কাজে লাগিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে কেবল একটি 'প্রজেক্ট' হিসেবে দেখা হচ্ছে, কিন্তু এর পেছনের রাজনৈতিক ইচ্ছা ও শ্রমকে আড়াল করা হচ্ছে।
ঋতু পরিবর্তনের মতো জনস্মৃতি
প্রকৃতিতে ঋতু যেমন নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলে যায়, আমাদের দেশের জনস্মৃতিও যেন অনেকটা সেরকমই চঞ্চল। যে নেত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পারমাণবিক ক্লাবের সদস্য হলো, আজ পরিস্থিতির চাপে সাধারণ মানুষও যেন সেই অবদানের কথা বলতে কুণ্ঠা বোধ করছে। অথচ উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, উন্নয়ন পুরো দেশের। আর সেই উন্নয়নের কারিগরকে সম্মান জানানোটা জাতি হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
ইতিহাসের বিচার
ক্ষমতা আসে, ক্ষমতা যায়। রাজনীতির মাঠে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর। সময়ের ধুলোবালি যখন সরে যাবে, যখন রূপপুরের আলোয় লাখ লাখ ঘর আলোকিত হবে, তখন ইতিহাসের পাতায় শেখ হাসিনার নাম স্বর্ণাক্ষরেই লেখা থাকবে। স্বার্থান্বেষী মহলের সাময়িক হইচই হয়তো আজকের প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে পারে, কিন্তু আগামীর ইতিহাস ঠিকই সত্যের সাক্ষী দেবে।
পরিশেষে বলতে হয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সত্যকে স্বীকার করার মানসিকতা রাখাটাই একজন সচেতন নাগরিকের পরিচয়। রূপপুর আমাদের অহংকার, আর এর পেছনের কারিগরকে ভুলে যাওয়া হবে ইতিহাসের প্রতি এক চরম অকৃতজ্ঞতা।
#রূপপুর #বাংলাদেশ_রাজনীতি #শেখ_হাসিনা #উন্নয়ন_গল্প #পারমাণবিক_বিদ্যুৎ #Barta24 #ইতিহাস
.jpg)