Advertisement

ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর গ্রেফতারের পরও ক্ষমতায় তার মিত্ররা | যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সংকট


ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর গ্রেফতারের পরও ক্ষমতায় তার মিত্ররাই

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এই ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্থাভাজন কেউ দায়িত্ব নেবেন। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

মাদুরোর গ্রেফতারের পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। তাকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট, যে আদালতটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর রাজনৈতিক বলয়ের প্রতি অনুগত বলে পরিচিত। ডেলসি রদ্রিগেজ নিজেও মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অনুগত সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং এখনো আছেন।

👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
[ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট: পটভূমি ও বিশ্লেষণ]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ও বাস্তব বাধা

ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি ঘোষণা দেন, “যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা চালাবে।”
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দেশটির প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা এখনো মাদুরোঘনিষ্ঠদের হাতেই রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের জন্য সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ হচ্ছে না।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক বক্তব্যে বলেন,

“ভেনেজুয়েলা নিজেকে রক্ষা করতে জানে এবং জানবে।”

👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
[ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাতিন আমেরিকা নীতি]

মার্কিন হামলা, নিহত ৪০ এবং জরুরি সতর্কতা

এই উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার খবর সামনে আসে। মার্কিন হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো জানান, কারাকাসে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে স্পষ্টভাবে “সামরিক আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানান।

হামলার পরপরই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। রাজধানী কারাকাসসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
[লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস]

মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার দাবি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বর্তমানে মাদুরো নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) রয়েছেন।

তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এই ঘটনায় বিশ্বের বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে লাতিন আমেরিকায় নতুন করে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
[ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন]

ক্ষমতায় থাকলেও কতটা স্বাধীন মাদুরোর মিত্ররা?

কাগজে-কলমে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা এখনো মাদুরোর অনুগতদের হাতেই রয়েছে। তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করে তারা কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মাদুরোকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটন যে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট।

বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন একদিকে নিকোলাস মাদুরোর ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


✅ Focus Keyword

ভেনেজুয়েলা রাজনৈতিক সংকট

✅ Tags / Hashtags

#ভেনেজুয়েলা
#নিকোলাস_মাদুরো
#ডোনাল্ড_ট্রাম্প
#মার্কিন_হামলা
#বিশ্ব_রাজনীতি
#লাতিন_আমেরিকা



 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ