Advertisement

লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে খালেদা জিয়ার জানাজা | মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ঐতিহাসিক দৃশ্য



লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা পূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জানাজা শুরু হয়ে ৩টা ৫ মিনিটে শেষ হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজা নামাজে ইমামতি করেন।

রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে কূটনীতিকদের উপস্থিতি

জানাজায় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, তিন বাহিনীর প্রধান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও জানাজায় অংশ নেন।

👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
[তারেক রহমানের শোকবার্তা: দেশের মানুষই ছিল মায়ের পরিবার]

জানাজায় আবেগঘন বক্তব্য তারেক রহমানের

জানাজাস্থলে উপস্থিত হয়ে তারেক রহমান সবার কাছে তার মায়ের জন্য দোয়া চান। তিনি বলেন,
“আপনারা আমার মরহুমা মায়ের জন্য দোয়া করবেন। কারো কাছে আমার মায়ের কোনো ঋণ থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, আমি পরিশোধ করব। কেউ আমার মায়ের কথায় বা আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি তার পক্ষ থেকে ক্ষমাপ্রার্থী।”

তার এই বক্তব্যে জানাজায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর




এদিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তারেক রহমানের হাতে ভারতের শোকবার্তা তুলে দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর।

👉 https://shadhinbangla202.blogspot.com/:
[খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া]

জনসমুদ্রে পরিণত ঢাকা

জানাজা উপলক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়াও বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকা পর্যন্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মানুষ যেখানে জায়গা পেয়েছেন, সেখান থেকেই জানাজায় শরিক হয়েছেন।

মরদেহ বহনের সময়সূচি ও রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল

বুধবার সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বের করা হয়। শুরুতে গুলশানের ‘ফিরোজা’য় নেওয়ার কথা থাকলেও পরে মরদেহ তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসভবনে নেওয়া হয়।

সেখানে পরিবারের সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের মধ্য দিয়ে মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়। সেনাবাহিনী হিউম্যান চেইন তৈরি করে মরদেহ বহন করে।

চিরনিদ্রায় শায়িত  জিয়াউর রহমানের পাশে

বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত । জানাজায় শ্রদ্ধা জানাতে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ঢাকায় উপস্থিত হন।

রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটি

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে সরকার ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। জানাজা উপলক্ষে বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জানাজাগুলোর মধ্যে খালেদা জিয়ার জানাজা

গুগলের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজাগুলোর তালিকায় রয়েছে—

  • জিয়াউর রহমান (১৯৮১): প্রায় ২০ লাখ মানুষ

  • উসমান হাদী (২০২৫): প্রায় ৮ লাখ মানুষ

  • আল্লামা শাহ আহমদ শফি (২০২০): প্রায় ৪ লাখ মানুষ

  • খালেদা জিয়া (২০২৫): প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ



🔹 Tags / Hashtags

#খালেদা_জিয়া
#KhaledaZia
#BNP
#তারেক_রহমান
#বাংলাদেশ_রাজনীতি
#জাতীয়_সংবাদ
#Janaza
#BangladeshPolitics



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ