Advertisement

“হাসিনা ইস্যুতে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে তীব্র কূটনৈতিক চাপ”




হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘিরে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর থেকে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। গত এক বছরে বাংলাদেশের বারবার অনুরোধের পরও ভারত তাকে প্রত্যর্পণ না করায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি আরও বেড়েছে।

দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ে তিন বিশেষজ্ঞ—মাইকেল কুগেলম্যান, শ্রীরাধা দত্ত ও সঞ্জয় ভর্ধ্বাজ—ভারতের সামনে থাকা জটিল বাস্তবতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণ তুলে ধরেছেন।


ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনা

দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, নির্বাসিত অবস্থায় শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদে চাপ বাড়াবে। তার মতে, হাসিনার উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কে একটি স্থায়ী কাঁটার মতো আটকে থাকবে।

তিনি আরও মনে করেন, ভারত মিত্রদের প্রতি যে আনুগত্য বজায় রাখে, হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া তারই প্রতিফলন। ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তন এলে আওয়ামী লীগ আবারও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে ফিরে আসতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


‘অস্বস্তিকর অবস্থায়’ ভারত

জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারত এখন এক অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছে।
ভারত জানে বাংলাদেশের জনগণের বড় অংশ হাসিনার প্রতি এখন ক্ষুব্ধ, ফলে তাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়।

দত্তের মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে ভারত চায় আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় ফিরুক। তবে বর্তমান বাস্তবতায় নয়াদিল্লিকে ঢাকার অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে হবে।


হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা ‘অসম্ভব’

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভর্ধ্বাজ বলেন, নয়াদিল্লির কাছে বর্তমান বাংলাদেশের সরকার ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া’ হিসেবে বিবেচিত।
এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া মানে হবে সেই শক্তিকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া—যা ভারতের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

২০১৩ সালের ভারত–বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে। ভারত সেই ধারা ব্যবহার করেই প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করছে বলে জানান ভর্ধ্বাজ।


সম্পর্কে তিক্ততা বাড়লেও ভাঙনের পর্যায়ে নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনা ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে বড় বাধা তৈরি করলেও ভারত–বাংলাদেশের সামগ্রিক সহযোগিতা এখনো বজায় রয়েছে।
বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই উভয় দেশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে স্পষ্ট—ঢাকার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে ভারতে তার কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের সময় এসেছে।


“হাসিনা ইস্যুতে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে তীব্র কূটনৈতিক চাপ”



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ