Advertisement

উপদেষ্টাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপত্তি গণঅধিকার পরিষদের


 গণঅধিকার পরিষদের দাবি: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন

অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা যেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন—এমন বিধান প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। দলটি মনে করে, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন নিয়ম তৈরি করতে পারে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। বৈঠকে তারা নয় দফা লিখিত দাবিনামা ইসির হাতে তুলে দেন।

নুর বলেন, “অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না। আমাদেরও অবস্থান একই—বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে কমিশনকে বলেছি।”

তিনি আরও জানান, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলসহ “ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীরা” যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সেই দাবি জানিয়েছে তাদের দল। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টিকেও বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

ইসির সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, “জোটে গেলেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে”—এই বিধানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে গণঅধিকার পরিষদ।

দলটির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেন, “আমরা কমিশনকে জানিয়েছি, উপদেষ্টা পরিষদের কেউ যেন আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন—সে বিধান যুক্ত করতে হবে।”

গণঅধিকার পরিষদের নয় দফা দাবি

১. প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
২. রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কাউকে রিটার্নিং অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনী দায়িত্বে না রাখা।
৩. প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং বাইরের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভোট ও গণনার দৃশ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা।
৪. ব্যালটবাক্স পরিবহনের সময় প্রার্থীদের এজেন্টদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
৫. সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
৬. কেন্দ্র দখল বা কালো ভোটের অভিযোগ উঠলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা।
৭. কোনো প্রার্থীর সমর্থকদের ভয়-ভীতি বা বাধা প্রদান করলে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া।
৮. গত তিনটি (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের এবার নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া।
৯. বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন—এমন বিধান সংযোজন এবং তপশিল ঘোষণার পর প্রশাসনকে পুনর্গঠন করা।


#গণঅধিকারপরিষদ #নুরুলহকনুর #নির্বাচন২০২৫ #অন্তর্বর্তীসরকার #বাংলাদেশনির্বাচন #নির্বাচনকমিশন #জাতীয়সংসদনির্বাচন #রাজনীতি #গণতন্ত্রউপদেষ্টাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপত্তি গণঅধিকার পরিষদের

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ