গাজায় ইসরাইল এবার পানিকে যুদ্ধের হাতিয়ার বানিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়ার পর তেল আবিব এখন পানির সরবরাহকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ইচ্ছাকৃতভাবে পানির সরবরাহ কমিয়ে প্রায় ১২ লাখ মানুষকে গাজা সিটি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা।
আনাদোলু এজেন্সি শুক্রবার এই খবর দিয়েছে। গাজার পানির সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অনেক পানির উৎস ধ্বংস হয়েছে। লবণাক্ত পানি শোধনাগারটি অচল। সাধারণ মানুষ এখন ইসরাইলের মেকোরোট পাইপলাইনের সীমিত সরবরাহের উপর নির্ভরশীল। ইসরাইলের সরকারি মিডিয়া জানিয়েছে, তারা উত্তর গাজার পানির প্রবাহ কমানোর পরিকল্পনা করছে। একই সাথে দক্ষিণে পাইপলাইন বসানোর প্রস্তুতি চলছে। এটি সেখানকার মানুষকে দক্ষিণে যেতে চাপ সৃষ্টি করছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নতুন সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন। ‘গিডিওনস চারিয়টস ২’ নামের এই অভিযানের লক্ষ্য গাজা সিটি দখল করা। তারা সেখানকার জনগণকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করতে চায়।
গাজায় পানির অভাব এবং ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। গাজার পৌরসভা মুখপাত্র হোসনি মুহান্না বলেছেন, ৫৬টি কূপ ধ্বংস হয়েছে। জ্বালানি ও মেরামতের অভাবে অনেক কূপ বন্ধ আছে। গাজার ৭৫ শতাংশের বেশি কূপ, পাম্প স্টেশন ও শোধনাগার অকার্যকর। মেকোরোট পাইপলাইন থেকে ৭০ শতাংশ পানি আসছে। বাকি চাহিদা কিছু সচল কূপ পূরণ করছে। প্রতিদিন মাথাপিছু পানির প্রাপ্যতা মাত্র ৫ লিটারে নেমেছে।
বৈশ্বিক ন্যূনতম মান হলো ১০০ লিটার। এই অবস্থায় ১২ লাখের বেশি মানুষ পানিশূন্যতার ঝুঁকিতে আছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বন্দীদের মুক্তি বা অস্ত্র জমা না দিলে গাজায় ‘নরকের দরজা’ খুলে দেওয়া হবে। গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, গাজা পুনর্দখলের এই পরিকল্পনা গণউচ্ছেদ। এটা ১২ লাখ মানুষের জন্য মৃত্যুদণ্ড। আন্তর্জাতিক সমাজকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
মেকোরোট পাইপলাইন হামলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ অস্থির। মুহান্না সতর্ক করেছেন, পানির সরবরাহ আরও কমলে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। লাখো পরিবার বেঁচে থাকার মতো পানিও পাবে না। তিনি জাতিসংঘ ও রেডক্রসকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বলেছেন। ইসরাইল যেন পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করে। ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা পুনর্দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এতে গাজা সিটির বাসিন্দাদের দক্ষিণে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ