Advertisement

‘তারেক রহমানের চাচাতো বোন’ সেই সাহসী শিক্ষিকা মাহরিন

 


তারেক রহমানের চাচাতো বোন হিসেবে পরিচিত, সাহসী শিক্ষিকা মাহরিন একদম সত্য। রাজধানীর উত্তরার দইয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সোমবার দুপুরে একটি শক্তিশালী শব্দে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান আছড়ে পড়ে। ঘটনাটি মুহূর্তেই ভবনটি দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। এই আগুনে কেমন করে কচি শিশু ও তাদের শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরী জীবন হারান, তা দুঃখজনক। তিনি মাইলস্টোনের ওই শাখার কো-অর্ডিনেটর ছিলেন।

দুর্যোগের সময় নিজের কথা না ভেবে, তিনি শিশুদের আগে বের করে আনতে চেষ্টা করেন। নিজেকে বিপন্ন করে অনেকের জীবন রক্ষা করেন। শরীরের বেশির ভাগ অংশ দগ্ধ হয় তার। অনেক ধোঁয়া আর আগুনে তার শ্বাসনালি পুড়ে যায়। তাকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাত ৯টার দিকে আইসিউতেই মারা যান এই সাহসী শিক্ষিকা।

শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে তার সাহসী প্রচেষ্টা এবং আত্মত্যাগটি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পায়। তাকে অনেকেই বীর বলে আখ্যা দেন। তার অতিরিক্ত কিছু অজানা তথ্য প্রকাশ পায় অনেকের ফেসবুক স্ট্যাটাসে। সেই তথ্য হলো—নিজের জীবন তুচ্ছ করে ২০ জনের বেশি শিশু উদ্ধারের সময় মাহরিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি।

এটি প্রথম জানতে পারে মাহরিনের সহপাঠী আলী আহমাদ মাবরুর। মঙ্গলবার সকালে, নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে জানায়, তিনি ও মাহরিন মানারাত ইউনিভার্সিতে ইংরেজিতে মাস্টার্স করেন। মাহরিন তার সিনিয়র ও বড় বোনের মতো ছিলেন। তারা একসাথে থাকতেন উত্তরাতে।

মাবরুর লিখেছেন, মাহরিন খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। ছোট ভাইয়ের মতো দেখভাল করতেন তাকে। কয়েক বছর আগে মাহরিন তার পিতা ও মাকেও হারান। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে সবাই তাকে অভিভাবকের মতো মানতেন। তার দুই ছেলে রয়েছে।

দুর্ঘটনার ঘটনায় তিনি জানান, বিমান স্কুলের উপর পড়ে গেলে মাহরিন আপা স্বভাবসুলভ মায়ের মতো ভূমিকা নেন। তিনি নিশ্চিত করে বললেন, আগুনে পুড়তে-pড়তে তিনি ২০ জনের বেশি শিশুকে উদ্ধার করেছেন। তবে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন হয়, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

মাবরুর আরও বলেন, যখন মধ্যরাতে তার লাশ বাসায় আনা হয়, তিনি দেখা করতে যায়। ওনার স্বামী তাকে দেখে কাঁদতে থাকেন। বলে, ‘তোর আপা পরশু রাতে তোর কথাও বলছিল’।

মাহরিন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে নিয়মিত ইবাদত ও কুরআন পড়তেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনেও ধর্মীয় বিশ্বাসে দৃঢ় ছিলেন।

মাহরিনের বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজা উল্লেখ করে, মাবরুর জানান, পরিবারের কাছেই এই পরিচয় ছিল। বাইরের কেউ এই পরিচয় জানতেন না। অত্যাচার আর ফ্যাসিবাদী সময়েও তিনি গোপনে বিএনপি নেতা, তারেক রহমানের সমর্থক হিসেবে কাজ করতেন। তখন অনেকের ভয় থাকলেও, তিনি নীরবে সততা ও দায়িত্ববোধে জীবন যাপন করতেন।

‘মাহরিন জিয়াউর রহমানের ভাতিজি’ এই তথ্য নিয়ে অনেকেরই ফেসবুক পোস্ট দেখা গেছে। তবে যুগান্তর নিশ্চিত করতে পারেনি, এ বিষয়ে সরকার বা দলের পক্ষ থেকে কিছু প্রচার হয়েছে কি না।

মাবরুর জানান, তার সঙ্গে যোগাযোগে তিনি জানান, মাহরিনের এই তথ্য শতভাগ সত্য। তিনি বলেন, মাহরিন বিএনপি নেত্রী তারেক রহমানের চাচাতো বোন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে, যেখানে মাহরিন নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন। সেখানে তিনি বলছেন, ‘আমি মাহরিন চৌধুরী। আমার বাবা মতিউর রহমান চৌধুরী। আমি তারেক রহমানের বোন। আমার চাচা জিয়াউর রহমান। আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ, এবং আমি একটা চাকরি করি।’

এক নারী থেকে শোনা যায়, মাহরিনের মৃত্যুতে তিনি বলেছেন, ‘তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি। তার বাড়ি নীলফামারীতে। ‘

তবে মাহরিনের এই পরিবারের পরিচয় ও সম্পর্ক যাচাই করতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘তাদের দলের কাছ থেকে এই বিষয়ে কোনো সরকারি তথ্য বা নিশ্চিততা আসেনি।’
‘তারেক রহমানের চাচাতো বোন’ সেই সাহসী শিক্ষিকা মাহরিন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ