Top News

শেখের বেটা’র আশীর্বাদেই লুঙ্গি সেলাই করা সলটু এখন শত কোটি টাকার মালিক

শেখের বেটা’র আশীর্বাদেই লুঙ্গি সেলাই করা সলটু এখন শত কোটি টাকার মালিক 


শেখের ঔরষ্যে লুঙ্গি সেলাই করা সলটু এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। এক সময় বাবা মুদির দোকানের পাশে লুঙ্গি সেলাই করে সংসার চালাতেন সুজিব রঞ্জন দাশ সলটু। কিন্তু আবদুস সামাদ আজাদের আশীর্বাদ আর শেখ ফাহিমের সঙ্গে সখ্যতার কারণে তার ভাগ্য চার চাঁদে উঠল। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি কয়েকশ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলেন।

দেশের বাইরে, কানাডার টরেন্টোতে তিনি রয়েছে শতকোটি টাকার চারটি বাড়ি এবং দুবাইতে রয়েছে একটি ফ্ল্যাট। এমন অঢেল সম্পদের কথা প্রকাশ্যে এসেছে অনুসন্ধানে। টরেন্টোতে তিনি এখন প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা জুয়ায় খরচ করেন। যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধানে এই অপ্রত্যাশিত উত্থানের সত্যতা উঠে এসেছে।

অস্বাভাবিক সম্পদের এর পিছনে রয়েছে শেখ ফাহিমের ছাতার ছায়া। অনেকের মতে, সলটুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে তার বড় ভূমিকা রয়েছে। একটি ব্যবসায়ীর মতে, ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ফাহিমের নেতৃত্বে তিনি কানাডায় বড় অঙ্কের টাকা ঢালতে শুরু করেন। সেই সময় তার হস্তক্ষেপে সিলেটের মল্লিকপুরে চালু হয় একটি গ্যাস পাম্প।

প্রতিদিন ওই পাম্প থেকে গ্যাস ভরে দেশের বিভিন্ন কারখানায় বিক্রি হত। একই সঙ্গে, কিছু দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা জালিয়াতি করে এ গ্যাসের চুরি চালিয়ে একেক সময়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ৫ আগস্ট গ্যাস পাম্প বন্ধ হলেও, সম্প্রতি আবার চালু হয়েছে।

পাশাপাশি, কানাডায় তার সম্পদের বিবরণও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। ২০১৯ সালে তার স্ত্রী শেলি দাসের নামে টরেন্টোর স্কারবোরো এলাকায় এক বাড়ি কেনা হয়। এই বাড়ির জন্য ‘ইকুইটি ক্রেডিট ইউনিয়ন ইনক’ নামের একটি কোম্পানি বিপুল অঙ্কের ডলার বিক্রি করে। বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাঠানোর জন্য এই কোম্পানি ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ।

এছাড়া, তার অন্য একটি বাড়ি ১২৯নং মরবোর্নে ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ডলার দিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই বাড়ির জন্য ‘কানাডা ইনক’ এবং ‘কুবার মরগেজ ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন’ নামের দুই কোম্পানি ডলার পরিশোধের জাল দেখাচ্ছে। বর্তমানে তিনি সেখানে থাকছেন ট্রিপলেক্স বাড়িতে, ১৯০নং প্লটের। ৫ আগস্টের পর, তিনি canadayey বাস করছেন।

২০১৭ সালে হাওরে ফসলের ক্ষতি নিয়ে দুর্নীতি উদ্ধারে দপ্তর মামলা করেছিল। এই মামলায় থাকতেন সলটু আর তার বন্ধু খায়রুল হুদা চপল। তবে, মূল দুই অভিযুক্তের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় তদন্তের অঙ্গবদল হয়। এই ঘটনায় শেখ ফজলে ফাহিমের হাত রয়েছে অভিযোগ ওঠে। খায়রুল হুদা, সলটুর একাধিক বাড়ির মালিক এখন কানাডায় থাকেন।

অভিযানে থাকা কিছু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, অভ্যুত্থান ও ১৫ বছরের ক্ষমতার প্রভাবে এই লুটেরারা কোটি কোটি টাকার কুমিরে পরিণত হয়েছে। তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না সংসদ বা দলের কাজে।

সলটুর উত্থানের পেছনে রয়েছে এক নাটকীয় কাহিনি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের সময় তাকে দেখানো হয় সার্ভিসের জন্য। তখন তিনি আবদুস সামাদ আজাদের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হুদা মুকুটের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে। এরপর তিনি সরকারি টেন্ডারবাজিতে অংশ নেন।

শেখ ফজলে ফাহিম এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হলে সলটু তাকে অলিখিত ক্যাশিয়ার বানান। তাকে কোটায় ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পরিচালকও করা হয়। করোনার সময়, সলটুর বাবার শ্রাদ্ধে শেখ ফাহিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে আসে। এর জন্য, সলটু ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে হেলিপ্যাড নির্মাণ করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শেখ ফাহিমের জন্য এইসব দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

সলটুর ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং সিলেটের উত্তর বাগবাড়িতে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার পর তার দামি একাধিক গাড়ি গোপন করে রাখা হয়েছে। শেখ ফাহিম পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সলটুর মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি লাইন কেটে দেন এবং খুদে বার্তারও কোনো উত্তর দেননি

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন