Advertisement

বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ


        বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ


https://shadhinbangla202.blogspot.com/চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ এক মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের প্রায় ৮৩ শতক জমি প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আঞ্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ২০০৪ সালের হলেও সম্প্রতি ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ জমিটি দখলে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং মৃতের পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী এস্তফিজুর রহমান ২০০৭ সালে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং ২০০৪ সালে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে, এমনকি তার জীবিত স্ত্রীকেও অন্ধকারে রেখে, ট্রাস্টের লোকজন তাকে ভুল বুঝিয়ে একটি দানপত্রে সই করিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) এস্তফিজুর রহমানের ছেলে আনোয়ারুল আজিম বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কোকদন্ডী গ্রামের বাসিন্দা এস্তফিজুর রহমানের ৮৩ শতক জমি ২০০৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি দানপত্রের মাধ্যমে আঞ্জুমান ট্রাস্টের নামে লিখে দেওয়া হয়। দানপত্রে দাতার বয়স ৩৭ বছর উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ৭২ বছর।

আনোয়ারুল আজিম বলেন, “আমার বাবা সহজ সরল ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি আঞ্জুমানের ভক্ত ছিলেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু লোক তাকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে এই কাজটি করেছে। দলিলে পরিবারের সম্মতির কথা লেখা থাকলেও আমরা কেউ কিছুই জানতাম না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে ট্রাস্টের লোকজন তাদের সাথে কথা বলে দলিল বাতিলের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু পরে আর যোগাযোগ করেনি। এখন তারা জায়গা দখল করে তাদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। তিনি জানান, ইসলামী বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলার পর তারা বলেছেন, পরিবারের অজান্তে অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কাছ থেকে এভাবে নেওয়া দান শরিয়ত সম্মত নয়।

এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আঞ্জুমান ট্রাস্টের বাঁশখালী উপজেলা প্রতিনিধি মাওলানা আবদুর রহিম সিরাজী বলেন, “এস্তফিজুর রহমান সাহেব নিজেই আবেগপ্রবণ হয়ে জায়গাটি ট্রাস্টকে দান করেছেন। আমরা নিতে চাইনি। এখন আমরা তার পরিবারের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করছি। সেখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়েই একটি খানকা শরিফ করার পরিকল্পনা আছে।”

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জামশেদুল আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বৃহস্পতিবার একটি অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি এখনো জানা হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ