বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ গত কয়েক মাস ধরে ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২১ দিনে দেশে ১৯৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৭ কোটি ডলার বেশি। এই প্রবৃদ্ধি শতকরা ৪০.৭০%। মার্চ মাসেও প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিকতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকেও শক্তিশালী করেছে। বর্তমানে দেশের মোট রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর রিজার্ভের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে, এবং এর পেছনে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের বড় ভূমিকা রয়েছে। রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কমেছে, ফলে ডলারের দাম ১২৩ টাকার মধ্যে স্থির রয়েছে।
ব্যাংকগুলোতে প্রবাসীদের পাঠানো ডলার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে, যা ব্যাংকগুলোকে তাদের উদ্বৃত্ত ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে সহায়তা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে প্রতিদিন গড়ে ৯ কোটি ৩৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার সমান।
এদিকে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস ২১ দিনে দেশে ২ হাজার ৩৭৫ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের ৯ মাস ২১ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২৮ কোটি ডলারের বেশি, যা ২৮.৬০% প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডির দৌরাত্ম্য কমেছে এবং অর্থপাচার বন্ধ হয়েছে। এছাড়া, খোলা বাজার এবং ব্যাংকে রেমিট্যান্সের ডলারের একই দাম পাওয়ায় প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬.৭৩ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, রিজার্ভ বর্তমানে ২১.৩৯ বিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের ‘বিপিএম-৬’ পরিমাপ অনুসারে, যেখানে মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করা হয়।
বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমান হওয়া উচিত, এবং বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের বেশি সময়ের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব।


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ