Advertisement

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩.৮ শতাংশ।

 



**সংক্ষেপ: আইএমএফের পূর্বাভাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি**  

**জিডিপি প্রবৃদ্ধি**:  

- **২০২৪-২৫ অর্থবছরে**: ৩.৮% (আইএমএফ পূর্বাভাস)  📉  

- **২০২৫-২৬**: ৬% প্রবৃদ্ধির আশা  📈  

- **সরকারি সংশোধন**: ৬.৭৫% থেকে কমিয়ে ৫.২৫% নির্ধারণ (অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায়)  


**মূল্যস্ফীতি**:  

- **২০২৪-২৫**: গড় ১০%  🔥  

- **২০২৫-২৬**: কমে ৫.২% হবে বলে আশা  ❄️  

- **বর্তমান পরিস্থিতি**: গত মার্চে ৯.৩৫%, গত ১ বছরে গড় ১০.২৬%  


**তুলনামূলক বিশ্লেষণ**:  

- **এডিবির পূর্বাভাস**: ২০২৪-২৫-এ ৩.৯% জিডিপি প্রবৃদ্ধি (আইএমএফের চেয়ে কিছুটা বেশি)।  

- **বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি**: ২.৮%, এশিয়ায় ৪% (আইএমএফ অনুমান)।  


**আইএমএফ ঋণ ও বৈঠক**:  

- **৪৭০ কোটি ডলার ঋণের কিস্তি**: বসন্তকালীন সভায় চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে আলোচনা হবে।  

- **বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল**: ১৫ সদস্যের দল সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নিচ্ছে।  


**প্রেক্ষাপট**:  

- **চ্যালেঞ্জ**: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যবসায়িক স্থবিরতা, রাজনৈতিক পরিবর্তন-পরবর্তী অনিশ্চয়তা।  

- **আশার দিক**: আগামী বছরে জিডিপি-মূল্যস্ফীতি উভয় সূচকের উন্নয়নের পূর্বাভাস।  


**মূল বার্তা**: আইএমএফের রক্ষণশীল পূর্বাভাস সত্ত্বেও, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।

বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কমাতে বাংলাদেশ কি পদক্ষেপ নিচ্ছে?



### **বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলমান পদক্ষেপ**  

বর্তমানে বাংলাদেশে **১০%** গড় মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) বেশ কয়েকটি নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

#### **১. আর্থিক ও মুদ্রানীতি কঠোরকরণ**  

- **সুদহার বৃদ্ধি**: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার (রেপো রেট) বাড়িয়েছে, যা ঋণের প্রবাহ কমিয়ে অর্থের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে।  

- **মুদ্রানীতি সংকোচন**: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য রিজার্ভ রেশিও (CRR) বাড়ানোর মাধ্যমে বাজেটে নগদ প্রবাহ সীমিত করছে।  

#### **২. জ্বালানি ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা**  

- **জ্বালানি ভর্তুকি হ্রাস**: বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সরকার ভর্তুকির বোঝা কমাচ্ছে, যা রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।  

- **লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সংস্কার**: পেট্রোবাংলার মতো প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়িয়ে জ্বালানি বাজারের অদক্ষতা কমানো হচ্ছে।  

#### **৩. আমদানিনীতি ও সরবরাহ চেইন উন্নয়ন**  

- **জরুরি পণ্যের আমদানি প্রণোদনা**: ডাল, ভোজ্যতেল, চিনির মতো পণ্যের আমদানি শুল্ক হ্রাস করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।  

- **ফরেক্স রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা**: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।  

#### **৪. সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার**  

- **সুবিধাভোগী বৃদ্ধি**: **১০ লাখ** পরিবারের বেশি নিম্ন আয়ের মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে চাল, তেল ও ডাল বিতরণ করা হচ্ছে।  

- **টিএক্যাশ/মোবাইল ফিন্যান্সের মাধ্যমে সহায়তা**: দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে নগদ সহায়তা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।  

#### **৫. আইএমএফের ঋণ শর্ত পূরণ**  

- **কাঠামোগত সংস্কার**: আইএমএফের **৪.৭ বিলিয়ন ডলার** ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী, মুদ্রাবাজারে নমনীয়তা (ফ্লেক্সিবল এক্সচেঞ্জ রেট) এবং ভর্তুকি সংস্কারে জোর দেওয়া হচ্ছে।  

- **রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি**: কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও কর ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি চলছে।  

### **চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা**  

- **রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা**: সরকার পরিবর্তনের প্রভাবে নীতিমালা বাস্তবায়নে বিলম্ব বা বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।  

- **বৈশ্বিক প্রভাব**: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধজনিত জ্বালানি ও খাদ্যমূল্যের চাপ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।  

- **বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা**: পাইকারি বাজার ও মজুদদারদের দাম বাড়ানোর প্রবণতা রোধে কঠোর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।  


### **ভবিষ্যত সম্ভাবনা**  

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, **২০২৫-২৬** অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি **৫.২%** এ নেমে আসতে পারে, যদি বর্তমান নীতি ও সংস্কার কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল না হলে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো না গেলে চাপ থেকেই যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ