Advertisement

ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য ‘ডিগবাজি’

 




মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২ এপ্রিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে উচ্চমাত্রায় পাল্টা শুল্ক (রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ) আরোপ করে হইচই ফেলে দেন।

 ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কারণে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।  বিভিন্ন শেয়ারবাজারে ধস নামে।  বিশ্ববাজারে দেখা দেয় চরম অস্থিরতা।  সামগ্রিকভাবে বাজার অর্থনীতিতে শুরু হয় কাঁপন।

 গত বুধবার ট্রাম্প নাটকীয়ভাবে আরেকটি সিদ্ধান্ত নেন।  তিনি বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেন।  তবে চীনের প্রায় সব পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১৪৫ শতাংশ করেন তিনি।

 বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রাম্পের এমন ‘ইউটার্ন’ নতুন কিছু নয়।  তিনি আগেও নানা বিষয়ে এমন ‘ডিগবাজি’ দিয়েছেন।  তেমন কিছু বড় ঘটনার উদাহরণ দেওয়া হলো।

 গর্ভপাতের অধিকার

 মার্কিন নারীদের গর্ভপাতের অধিকার বিষয়ে ট্রাম্প গত ২৫ বছরে তাঁর অবস্থান বারবার পরিবর্তন করেছেন।

 ১৯৯৯ সালে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেছিলেন ট্রাম্প।  তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি গর্ভপাতের অধিকারের পক্ষের মানুষ।

 ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় এ বিষয়ে ট্রাম্প তাঁর সুর পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলেন।  গর্ভপাত করতে আগ্রহী নারীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।  আর ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতার প্রথম মেয়াদকালে গর্ভপাতের ঘোর বিরোধী ছিলেন।

 ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদের শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক নিষিদ্ধ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন।  জনপ্রিয় এ প্ল্যাটফর্মটি চীনের সুবিধার জন্য মার্কিন ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করে বলেও তখন অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

 কিন্তু ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি টিকটক পছন্দ করি।’  ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে টিকটককে রক্ষা করতে যাচ্ছেন।

 তবে ট্রাম্প এখন বলছেন, তিনি টিকটক নিয়ে একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছেন।  যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে চুক্তিটি করতে চাইছেন তিনি।

 রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক

 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনফাইল ছবি: এএফপি

 ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারকালে ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্কের পক্ষে ছিলেন।  কিন্তু নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের তাঁর এই অবস্থান থেকে সরে আসেন।

 দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প হঠাৎ করেই ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হন।  ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য তিনি গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করেন।

 কিন্তু সম্প্রতি ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে পুতিনের যে দৃষ্টিভঙ্গি, তাতে তিনি খুবই ক্ষুব্ধ।

 ট্রাম্প প্রায়ই তাঁর প্রশাসনে নতুন নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।  আবার সেই তিনি তাঁদের তাঁর রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর প্রতিযোগীদের মতো করে প্রশাসন থেকে বের করে দেন।

 এমন ঘটনার নজির অনেক আছে।  এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দুটি নাম হলো সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন।

 ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে প্রথম দিন থেকেই চীনকে শায়েস্তা করা শুরু করবেন।  তিনি বেইজিংকে ‘মুদ্রা কারসাজিকারী’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছিলেন।

 প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাস পর ট্রাম্প তাঁর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো বাসভবনে আতিথ্য দিয়েছিলেন।  তখন তিনি বলেছিলেন, চীন মুদ্রা কারসাজিকারী নয়।

 কিন্তু এখন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের বিরুদ্ধে বড় শুল্ক আরোপ করেছেন।  এ ছাড়া তিনি ক্রমাগত চীনের বিরুদ্ধে মুদ্রা কারসাজির অভিযোগ তুলছেন।

 করোনা মহামারি

 ২০২০ সালে করোনার প্রথম দিকে এই মহামারিকে গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প।  এমনকি করোনার বিস্তার রোধে নেওয়া স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো নিয়ে তিনি উপহাস করেছিলেন।

 ২০২০ সালের অক্টোবরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিন দিন হাসপাতালে থাকার পর ট্রাম্পের সুর বদল হয়।  তিনি করোনার আধুনিক চিকিৎসা ও টিকার প্রশংসা করেন।

 হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে হোয়াইট হাউসে ফিরে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি করোনাভাইরাস সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি।  আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা ওষুধ আছে... এবং টিকা আসছে।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ