Top News

হরমুজ প্রণালী বন্ধ, ইউরোপে গ্যাস ৭০০ ডলার ছাড়াল: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা


 

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লেগেছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্ব জ্বালানির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়, তাই অবরোধের খবর প্রকাশের পরপরই বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়।

লন্ডনের আইসিই এক্সচেঞ্জের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রতি এক হাজার ঘনমিটারে ৭০০ ডলার ছাড়িয়েছে। নেদারল্যান্ডসের টিটিএফ হাবে এপ্রিল চুক্তির মূল্য প্রায় ৭১১ ডলারে পৌঁছেছে। দিনের শুরু থেকেই দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে মস্কো এক্সচেঞ্জেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সূচক ০.৪৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮৪৮ পয়েন্ট অতিক্রম করে। বিশ্লেষকদের মতে, রুশ তেল ও গ্যাস কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় এই উত্থান হয়েছে।

তেলের বাজারে কী হচ্ছে?

রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভ মনে করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্বিগুণও হতে পারে। তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বাজারে বিকল্প উৎসের ওপর চাপ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দামে।

সোনা-রুপায় ভিন্ন চিত্র

অস্থির সময়ে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকে। কমেক্স এক্সচেঞ্জে রুপার ফিউচার চুক্তির দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে, যদিও সোনার দাম সামান্য বেড়েছে। এপ্রিল ২০২৬ ডেলিভারির সোনা ট্রয় আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৩১৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সংঘাত দীর্ঘ হলে সোনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

রাশিয়ার জন্য সুযোগ?

মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জন কাভুলিচের মতে, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়লে রাশিয়ার মতো রপ্তানিকারক দেশগুলো সাময়িকভাবে লাভবান হতে পারে। বিশেষ করে কাতারের এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হলে রাশিয়ার তরলীকৃত গ্যাস রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইমপ্লিমেন্টারের মারিয়া বেলোভাও একই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইউরোপের সামনে নতুন সংকট?

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই সংঘাত যদি চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারে। তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেন সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকট ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক বিষয় নয়। এর ঢেউ ইতোমধ্যেই ইউরোপের গ্যাস বাজার থেকে শুরু করে সোনা, তেল এবং শেয়ারবাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির পরবর্তী পথচলা।


#ইউরোপগ্যাসসংকট #হরমুজপ্রণালী #মধ্যপ্রাচ্যসংঘাত #তেলেরদাম #সোনারদাম #রাশিয়াঅর্থনীতি #এলএনজি #গ্লোবালমার্কেট



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন