তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের পথচলা শুরু
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা ও আলোচনা তৈরি করেছে।
শপথ অনুষ্ঠান: ঐতিহ্যের বাইরে নতুন আয়োজন
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার ঐতিহাসিক জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায়। প্রচলিত নিয়ম ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠান।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ পড়ান। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্য এবং প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং পুরো আয়োজনটি ছিল বেশ জমকালো ও আনুষ্ঠানিক পরিবেশে সাজানো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা, সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূস-সহ তাঁর পরিষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনে বড় জয় এবং সরকার গঠন
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে ২০৯টি আসনে বিজয় অর্জন করে। তাদের জোটের শরিক দলগুলো আরও ৩টি আসন পায়। এই ফলাফলের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করল।
নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৫০ জন সদস্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন টেকনোক্র্যাট রয়েছেন। বিশেষভাবে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, নতুন মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
নতুন নেতৃত্ব নিয়ে প্রত্যাশা ও জনমত
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা ও আগ্রহ ছিল স্পষ্ট। অনেকেই আশা করছেন, নতুন নেতৃত্ব দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি এবং জনগণের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত হলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সাদা পোশাকে তাকে আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল বলে উপস্থিতদের অনেকে মন্তব্য করেছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ পড়ান। পরে তাঁরা করমর্দন করেন ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল
সামনে চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের কাছে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে দেশের নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে নতুন সরকারের শুরুটা যে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা, তা বলাই যায়।
#তারেকরহমান, #বিএনপিসরকার, #বাংলাদেশরাজনীতি, #নতুনমন্ত্রিসভা, #জাতীয়নির্বাচন, #বাংলাদেশসরকার, #রাজনৈতিকখবর, #সংসদভবন, #নতুনসরকার২০২৬



