“আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটে টালমাটাল ব্যাংক খাত — জনতার টাকার বোঝা বইছে দেশের ব্যাংকগুলো।”👇
আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটের বোঝা বইছে ব্যাংক খাত
গত সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন লুটপাট ও অনিয়মের কারণে এখন সেই দায়ভার গুনছে পুরো আর্থিক খাত। ঋণখেলাপি, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন সংকট দিন দিন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ২৪টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। ঘাটতির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা—যা তিন মাস আগের তুলনায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। মার্চ শেষে মূলধন ঘাটতিতে ছিল ২৩টি ব্যাংক, মোট ঘাটতি ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা।
নতুন করে এনআরবিসি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ঘাটতির তালিকায় যোগ হয়েছে, যদিও বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক ঘাটতি থেকে মুক্ত হয়েছে।
লুকানো খেলাপির হিসাব উন্মোচন
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া জানান, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৮.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) বাড়াতে গিয়ে ব্যাংকটি মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, গত সরকারের আমলে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঋণের নামে বের করে নেওয়া হলেও সেগুলোকে খেলাপি দেখানো হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই লুকানো খেলাপিগুলো সামনে এসেছে। এর ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৭ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর মূলধন ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সিআরএআর কমে অর্ধেকে
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মূলধন-ঝুঁকি অনুপাত (CRAR) নেমে এসেছে ৪.৪৭ শতাংশে, যেখানে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ন্যূনতম হার হওয়া উচিত ১০ শতাংশ। মার্চ শেষে এই হার ছিল ৬.৭৪ শতাংশ।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থা
চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে জনতা ব্যাংক—যার ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৫ কোটি টাকা।
এরপর রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক (৭,৬৯৮ কোটি), রূপালী ব্যাংক (৪,১৭৩ কোটি) ও বহুল আলোচিত বেসিক ব্যাংক (৩,৭৮৩ কোটি টাকা)।
বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ব্যাংকটি এখন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মতে, “বেসিক ব্যাংককে টিকিয়ে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই; বরং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।”
বেসরকারি ব্যাংকের সংকট
বেসরকারি খাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি ন্যাশনাল ব্যাংকে, যার পরিমাণ ৮,৪৫৯ কোটি টাকা।
এরপর রয়েছে এবি ব্যাংক (৬,৭৭৫ কোটি), পদ্মা ব্যাংক (৫,৬১৯ কোটি), আইএফআইসি ব্যাংক (৪,০৫১ কোটি), বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক (১,৮৭৮ কোটি), প্রিমিয়ার ব্যাংক (১,৬৪০ কোটি), ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (১,৩৮৫ কোটি), এনআরবিসি ব্যাংক (৩১৬ কোটি), সিটিজেন ব্যাংক (৮৬ কোটি) এবং সীমান্ত ব্যাংক (৪৫ কোটি টাকা)।
শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ঘাটতি
শরিয়াহ্-ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি ইউনিয়ন ব্যাংকে, যার ঘাটতি ২১ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ (১৮,৫০৪ কোটি) এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (১০,৫০১ কোটি)।
এছাড়া গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক—সবগুলোই উল্লেখযোগ্য ঘাটতির মুখে রয়েছে।
সবচেয়ে বড় ঘাটতিতে কৃষি ব্যাংক
বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে, যার ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।
এর পরেই রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, যার ঘাটতি ২,৬২০ কোটি টাকা।
🔍 উপসংহার
ব্যাংক খাতের এই বিপর্যয় শুধু অনিয়মের ফল নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিফলন। মূলধন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণের এই ভয়াবহতা রোধে দ্রুত ও স্বচ্ছ সংস্কার ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
#বাংলাদেশব্যাংক#ব্যাংকলুটপাট#আর্থিকসংকট#অর্থনীতি#খেলাপিঋণ#মূলধনঘাটতি#দুর্নীতি#আওয়ামীলীগসরকার#ব্যাংকখাতসংকট#অর্থনৈতিকখবর
#BangladeshBank
#BankScam
#FinancialCrisis
#Corruption
#LoanDefault
#BankingSector
#EconomicCrisis
#AwamiLeague
#CapitalDeficit


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ