(👉 ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়—নিউজ রিপোর্টিং টোন বজায় রাখা হয়েছে।)
স্বর্ণালংকার ও অবৈধ সম্পদ গোপন: তদন্তে উঠে আসছে শেখ হাসিনা পরিবারের নতুন তথ্য
ক্ষমতা হারানোর পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও কর গোপনের অভিযোগে চলমান তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও লকার সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখছে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নথি, নির্বাচনি হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনায় দেখা গেছে—ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের বিস্তর অমিল রয়েছে।
ব্যাংক লকারে ৯ কেজির বেশি স্বর্ণালংকার
তদন্তকারী কর্মকর্তারা অগ্রণী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের তিনটি লকার খুলে মো
ট ৮৩২ ভরি (প্রায় ৯.৭ কেজি) স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেন।
বর্তমান বাজারদরে এই স্বর্ণের মূল্য ১৭ কোটি টাকারও বেশি।
-
অগ্রণী ব্যাংক (শেখ হাসিনা–সায়মা ওয়াজেদ পুতুল যৌথ): ৪,৯২৩ গ্রাম
-
অগ্রণী ব্যাংক (শেখ হাসিনা–শেখ রেহানা যৌথ): ৪,৭৮৩ গ্রাম
-
পূবালী ব্যাংক (শেখ হাসিনা একক): একটি খালি পাটের ব্যাগ, যা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এছাড়া স্বর্ণালংকারের সঙ্গে একটি চিরকুটে শেখ হাসিনাসহ পরিবারের কয়েক সদস্যের নাম পাওয়া গেছে।
রিটার্নে ১৩ লাখ টাকার স্বর্ণ, কিন্তু লকারে বহু গুণ বেশি
আয়কর আইনে স্বর্ণ বা মূল্যবান সম্পদের পরিমাণ ও অবস্থান উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হলেও রিটার্নে শেখ হাসিনা স্বর্ণের মূল্য উল্লেখ করলেও পরিমাণ উল্লেখ করেননি।
রিটার্ন অনুযায়ী—
স্বর্ণালংকারের মূল্য: ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যা প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণের সমান।
সিআইসির কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিমাণ উল্লেখ না করে মূল্য উল্লেখ করা ছিল ‘করভোগ এড়ানোর কৌশল’, কারণ স্বর্ণের দাম প্রতি বছর বাড়ছে।
হলফনামায় কৃষিজমি ৫.২ একর, বাস্তবে ২৯ একর
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্বাচনি হলফনামায় শেখ হাসিনা কৃষিজমি দেখিয়েছেন ৫ দশমিক ২ একর।
কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে মোট ২৯ একর কৃষিজমি।
২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় দুদক এই অমিল শনাক্ত করলেও মনোনয়ন বাতিলে তারা পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন এক গণশুনানিতে মন্তব্য করেন।
রাজধানীতে শত কোটি টাকার সম্পদ
তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা পরিবারের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে—
-
গুলশান নিকেতন ৭২ নম্বর বাড়ি – মালিকানা নিয়ে নথিতে ভিন্ন তথ্য
-
বারিধারা কে ব্লক ২০ নম্বর বাড়ি – কাগজে অন্যের নামে, বাস্তবে শেখ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে
-
গুলশান-১ এর ৭ নম্বর বাড়ি – পুতুলের নামে দেখানো
-
সেগুনবাগিচায় একটি ফ্ল্যাট – শেখ রেহানার নামে
গত বছরের ৫ আগস্টের পরও এসব সম্পত্তি থেকে প্রতিনিধির মাধ্যমে ভাড়া তোলা হচ্ছে।
কর ফাঁকি ও লকার গোপনের অভিযোগ
আয়কর আইনে ব্যাংক লকারের তথ্য বাধ্যতামূলক হলেও শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা রিটার্নে লকার থাকার তথ্য দেননি।
পূবালী ব্যাংকও লকারের তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়, পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লকার জব্দ করা হয়।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, লকারে থাকা নথিপত্র গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। খালি পাটের ব্যাগটি নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও লকার খোলার সময়সূচি এখন তদন্তের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
দুদক: “স্বর্ণ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা—তদন্ত চলছে”
দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন—
-
স্বর্ণালংকারগুলো জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কিনা তদন্তকারী কর্মকর্তা যাচাই করছেন
-
যৌথ লকারে কার নামে কত স্বর্ণ রয়েছে, তা আলাদা করে মিলিয়ে দেখা হবে
-
আদালতের অনুমতি নিয়েই লকার খোলা হয়েছে
শেখ হাসিনার নির্বাচনি হলফনামায় ঘোষিত সম্পদ (সংক্ষেপে)
-
কৃষি আয়: ৯,৪৬,০০০ টাকা
-
ব্যাংক আমানত – ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা
-
সঞ্চয়পত্র – ২৫ লাখ
-
এফডিআর – ৫৫ লাখ
-
নগদ টাকা – ২৮,৫৩০ টাকা
-
মোটরগাড়ি – ৩টি
-
স্বর্ণালংকার – ১৩.২৫ লাখ টাকার
-
পূর্বাচলের প্লট – মূল্য ৩৪.৩৬ লাখ
-
ঢাকায় ৩ তলা বাড়ি – মূল্য ৫ লাখ টাকা
তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে ঘোষিত সম্পদের বাইরেও অনেক অপ্রকাশিত সম্পদের তথ্য মিলছে বলে তদন্ত সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
উপসংহার
দুদক ও সিআইসির যৌথ তদন্তে যেসব তথ্য সামনে আসছে, তা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘোষিত সম্পদ, ব্যাংক লকার, কর রিটার্ন এবং বাস্তব সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের অমিল থাকা—তদন্তকারী সংস্থার কাছে এখন বড় প্রশ্ন।
তদন্ত শেষ হলে স্বর্ণ, ব্যাংক হিসাব এবং স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কিনা—সেসব বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
Sheikh Hasina
Bangladesh Politics
ACC Investigation
Corruption News
Breaking News BD
Unexplained Wealth
Bangladesh Economy
Gold Recovery Caseশেখ হাসিনা পরিবারের লকার ও অঘোষিত সম্পদ: দুদকের চাঞ্চল্যকর তদন্ত
_(cropped).jpg)




.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ