২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চাপে ক্ষমতা থেকে পড়ে যান সাবেক স্বৈরশাসক ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেন। এখনও সেখানে রয়েছেন। এই ব্যাপারে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়েছে, এটা দিল্লিতে হাসিনার নেতাকর্মীদের সামনে বলা সাম্প্রতিক বক্তৃতার দৃশ্য।
রিউমর স্ক্যানার দল তদন্ত করে জানতে পারে, এই ভিডিওটা নতুন নয়। বরং ২০১৮ সালের জুনো ক্লিপ।
আরও খোঁজখবরে ‘Sadeq Sibli’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০১৮-এর ৩০ সেপ্টেম্বরের একটা ছবি পাওয়া যায়। এটা আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে খুব মিলে যায়।
একই দিনে ‘Ifjal Chowdhury’ নামের আরেক ফেসবুক প্রোফাইলে একটা ভিডিও মেলে। এটি আলোচিত ভিডিওর সাথে অনেকটা একই রকম। দুটো ভিডিও দেখলে বোঝা যায়, এগুলো একই ঘটনার আলাদা কোণ থেকে তোলা।
তারপর ‘MG Mawla’ নামের অ্যাকাউন্টে সেই দিনের আরেক ভিডিও পাওয়া যায়। পোস্টের টাইটেলে লেখা, এটা জাতিসংঘের ৭৩তম সেশন শেষে নিউইয়র্কে হাসিনার বিদায়ের দৃশ্য।
দাবিকৃত ভিডিও আর ২০১৮-এর দুই ভিডিও ও একটা ছবির তুলনা করলে দেখা যায়, হাসিনার পোশাক, চারপাশের লোকজনের অবস্থান আর ভবনের গড়ন সব একই।
🔍 যা জানা গেছে
-
শৌখর খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের কিছু নেতা দিল্লিতে শেহ হসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং পার্টির পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন। News Arena India
-
বাংলাদেশে প্রচলিত যে দাবি রয়েছে — ইসলামিক বিরোধী কার্যকরী কর্মকাণ্ড, বিদেশ থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ — সে ধরনের সংবেদনশীল প্রসঙ্গে ভারতকে হস্তক্ষেপের দাবি করা হয়েছে। AajTak+3Anadolu Ajansı+3Navbharat Times+3
-
ভারত সরকার এই দাবি সম্পর্কে বলেছে যে, “যেমন কোনও অবৈধ কার্যকলাপ বা আইনবিরুদ্ধ কাজ” চলছে, সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য রাখে না। ABP News+3Navbharat Times+3AajTak+3
-
ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্ট্রি বলেছেন, হসিনা সম্পর্কিত বিষয়গুলো “ন्यাযবিচার ও আইনগত” পর্যায়ে রয়েছে এবং বিষয়টিতে পরামর্শ ও আলোচনা প্রয়োজন। The Times of India
-
হসিনা গত বছর (২০২৪) আগস্টে ছাত্রবিক্ষোভের পর ভারত চলে আসেন। www.ndtv.com+2New Age+2
-
এক সময়ে Financial Times জানায়, তিনি লোডি গার্ডেনে জনসমক্ষে উপস্থিত হয়েছিলেন — যদিও তা ছিল উচ্চ সুরক্ষার মধ্যে এবং সীমিত প্রসারিত। New Age
অন্যদিকে, ডেইলি স্টারের ২০১৮-এর ৩০ সেপ্টেম্বরের খবরে বলা হয়েছে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী হাসিনা জাতিসংঘের ৭৩তম অধিবেশনের জন্য আমেরিকায় সপ্তাহভর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সময়ে লন্ডনের দিকে রওনা দেন। আর যুগান্তরের ১ অক্টোবরের খবর থেকে জানা যায়, সেই সকালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
তাই ২০১৮-এর জুনো ভিডিওকে দিল্লিতে হাসিনার সাম্প্রতিক উপস্থিতির দাবিতে ছড়ানো হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ