Advertisement

বিএনপি-জামায়াতের হেভিওয়েটদের বিপক্ষে এনসিপির শীর্ষ নেতারা কে কোন আসনে লড়ছেন


 আগামী নির্বাচনে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের কঠিন লড়াই করতে হবে। কারণ তাদের প্রার্থী তালিকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বেশ কয়েকজন শক্তিপ্রার্থী থাকছে। জামায়াতও অনেক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এই পরিস্থিতিতে গণআভ্যুত্থানের নেতা নেত্রীদের নির্বাচনে জয়ের জন্য কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। ভোটের মাঠে জনতার আবেগ ও সমর্থন তুলে নিতে ব্যর্থ হলে ফলাফল মারাত্মকভাবে পণ্ড হতে পারে। এই সব বিষয়ে বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির ভবিষ্যৎ এখন নির্ঘন্টের বাইরে নয়।

জাতীয় নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে অগ্রগতি হলে ফেব্রুয়ারিতে ভোট হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শীর্ষ নেতারা প্রার্থী থেকে কাকে কোন আসনে লড়বেন, সেটিও প্রায় নির্ধারিত। প্রচারও শুরু হয়েছে। তবে মনোযোগ অনেকেরই বেশি আসছে নতুন দল এনসিপিকে কেন্দ্র করে। দলের নেতারা তাদের নিজ এলাকায় ভোটের জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, ডা. তাসনিম জারা, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আবদুল হান্নান মাসউদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। তবে তাদেরকে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের জনপ্রিয় প্রার্থীদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

বেশ কিছু বড় প্রার্থীও থাকবেন এই প্রতিযোগিতায়। বিএনপি থেকে সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, কেন্দ্রীয় নেতা এমএ কাইয়ুম, সাবেক মহানগর কাউন্সিলর মোহাম্মদ এমদাদুল হক, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির, ও মাহদী আমিনের মতো প্রার্থী থাকছেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও এই তালিকায় আছেন।

সব ধরনের প্রতিযোগিতায় জিততে হলে দল ও প্রার্থীদের সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে হবে। ভোটের আগেই মাঠের পরিস্থিতি বোঝার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির ভবিষ্যৎ স্থিতি দল হিসেবে নয়, বরং নতুন ধারণা ও প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করবে। দলের সাংগঠনিক ভিত্তিও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ফেসবুক পোস্ট বা সংবাদ সম্মেলন দিয়ে সফল হওয়া যায় না। গণআভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ও ভোটের রাজনীতি এক নয়। ভোটের হিসাব আলাদা। অর্ধেক প্রার্থী দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। অন্যথায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে প্রচার ও ফলাফলে।

তাদের দলীয় জয় নির্ভর করছে আসন অনুযায়ী। যা বেশি সম্ভাবনা, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় পেতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে ঝামেলা বাড়তে পারে।

অজানা রিপোর্ট বলছে, ঢাকার উত্তরাঞ্চলেও অনেক সম্ভাবনা আছে। নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এই আসনে প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ড. এমএ কাইয়ুম প্রার্থী। জামায়াতের পক্ষ থেকে আতিকুর রহমান আছেন। তাই এই আসনে জয় বেশ কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছে। ২০১৮ সালে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিল কাইয়ুমের স্ত্রী। এই আসনে আবারো টক্কর হবে বলে ধারণা।

এছাড়াও, আখতার হোসেনের মূল আসন রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া)। এই আসনের প্রতিযোগিতার দিকেও নজর রয়েছে। সব মিলিয়ে উত্তেজনা বেড়েই চলছে রাষ্ট্রের একেবারে কেন্দ্রে।
বিএনপি-জামায়াতের হেভিওয়েটদের বিপক্ষে এনসিপির শীর্ষ নেতারা কে কোন আসনে লড়ছেন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ