Advertisement

ইরানের সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের ৭২ বছরের আগের ভূমিকায় কি নামছেন ট্রাম্প


 ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ দিন দিন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ বলা কঠিন। এর মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করা তেমন কঠিন নয়। এটা তার জন্য খুবই সহজ লক্ষ্য। গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালেলে লিখেছেন, ‘আমরা এখন তাকে হত্যা করছি না; কিন্তু আমাদের ধৈর্য শেষ হতে চলেছে।’ ইসরায়েল চাইছে, ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নাক। ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যাপারে ভাবছে। শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল, তারা এই হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না। তবে ট্রাম্পের কিছু ঘনিষ্ঠের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে—আসলে কি তারা সরাসরি ইরানে হামলা করবে? এর মধ্যেই তার ‘মেক এরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের ভিতরে ফাটল ধরেছে। সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন ও বিশ্লেষক টাকার কার্লসন জানাচ্ছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুধু পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের জন্য নয়। মূল লক্ষ্য হলো সরকার বদলানো। ইরানের দিক থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের ছবি দিয়ে বলা হয়, ‘তারা আমাকে শত্রু বলে মনে করে, এটা পুরা অরওয়েলের মতো গল্প।’ অরওয়েল লিখেছিলেন ‘১৯৮৪’ নামে ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস। যেখানে সরকার পুরো মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের প্রধান নির্বাচিত শাসকদের বিরোধিতা করার সময় তাদের ধর্মীয় রক্ষণশীলতা দোষ দেয়। তবে ইসলামি যুগে এই দেশটি পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপের নতুন ঘটনা নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অনেক আগে থেকেই তারা এই ধরনের হস্তক্ষেপ দেখেছে। মূল প্রশ্ন হলো—ইসরায়েল কি সত্যিই চায় ইরানে সরকার পাল্টে দিক? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি তার সহায়তা দিচ্ছে? আর এইসব হস্তক্ষেপের ইতিহাস কতটা গভীর? গত শুক্রবারের ভোরে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। নেতানিয়াহু একটি ভিডিও ভাষণে বলেন, ‘আশা করি এই হামলার মাধ্যমে ইরানের অবরোধ হবে।’ তিনি বললেন, ‘ইসআরের লক্ষ্য হল ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি থেকে আমাদের রক্ষা করা।’ তিনি আরও বললেন, এই হামলা মানুষকে সরকারের পতন করতে সহায়তা করবে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’। এই নামের পেছনে অনেক ঐতিহাসিক অর্থ রয়েছে। সিংহ ও সূর্যের প্রতীকটি প্রাচীন পারস্যের। শেষ শতাব্দীর শেষ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ইরানের পতাকায় এই সিংহের প্রতীক দেখা যায়। শুক্রবারের হামলার ঠিক অনেক পরে নেতানিয়াহু বললেন, ‘এখন সময় ইরানের জনগণকে ঐতিহাসিক পতাকায় একত্রিত হওয়ার।’ তিনি বললেন, ‘অন্যায় ও অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এখন।’ সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছবি দেখা যায়। ১৯৬৭ সালে তার অভিষেক অনুষ্ঠানে তোলা। সপ্তাহের শেষে ইসরায়েলের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ছড়ায়। সেখানে দেখা যায়, তলোয়ারধারী একটি সিংহ আধুনিক ইরানি পতাকাকে ছিন্নভিন্ন করছে। এই পতাকায় ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক। অনেকেই মনে করেন, এই ছবি ইরানের স্মৃতি জাগিয়ে তাদের প্রতিরোধকে উসকে দিতে চাইছে ইসরায়েল। তবে কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোনস বলেন, ‘ইসরায়েলের এই সিংহ আর ইরানিদের প্রভাবিত করবে না। এটা মনে করা খুব বেশি সত্য নয়।’

ইরানের সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের ৭২ বছরের আগের ভূমিকায় কি নামছেন ট্রাম্প

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ