স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আপেল মাহমুদকে প্রমাণ দিতে হলো তিনি মুক্তিযোদ্ধা
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করতে গীত রচনা করেন আপেল মাহমুদ। এই গানের নাম "মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি"। গানটির সুরকার ও গায়ক তিনি। সবাই তাকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জানে। তবে, ৫৪ বছর পর জানাতে হলো, তিনি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা।
সম্প্রতি, এক ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় নিয়ে অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি কুমিল্লার সার্কিট হাউসে হাজির হন। প্রকাশ্যে তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ দেন। তিনি জানান, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কাজ করেছেন। পাক সেনাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়াই করেছিলেন। তিনি মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা।
জামুকা সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের পরে মনোয়ার হোসেন আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। দাবি করা হয়, তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন। এরপর, ১২ মে, জামুকা তাকে নোটিশ দেয়। নোটিশে তার দলিল ও সাক্ষ্য আনার নির্দেশ ছিল।
সোমবার কুমিল্লায় শুনানি হয়। সেখানে জামুকার মহাপরিচালকসহ সাত সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন উপজেলার আরও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ শোনানো হয়। শাহিনা খাতুন বলেন, আপেল মাহমুদ নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন। এই প্রমাণে তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
জামুকা জানায়, আগস্টের পরে ৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি কমিটিতে শুনানি হয়। আপেল মাহমুদ বলেন, আমাকে আবারও প্রমাণ দিতে হয়েছে আমি মুক্তিযোদ্ধা। এই সংবাদে অনেক ধরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি জানান, ১৯৭১ সালে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের অধীনে তিনি সরাসরি যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি বলেন, তিনি নরসিংদীর বিভিন্ন জায়গায় লড়াই করেছেন। আশুগঞ্জে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। তেলিয়াপাড়া ছিল তার শেষ যুদ্ধের স্থান। এই সময় তাকে চোখে আঘাত লাগে।
আশুগঞ্জের যুদ্ধের পরে তাকে আগরতলায় নেওয়া হয়। সেখানে আবদুল জব্বার ভাইও ছিলেন। ২৫ মে কলকাতায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গঠন হয়। সেখানে তিনি ও জব্বার ভাইকে অনুরোধ করা হয় শরণার্থীদের জন্য গান গাইতে। তিনি ২০০৬ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগকারী মনোয়ার হোসেনের প্রতি তিনি কোনও ক্ষতি করেননি। তিনি জানেন না, কেন এমন অভিযোগ তার উপর আনা হলো। এই অভিযোগের কারণে, তাকে জীবনভর প্রমাণ করতে হয়েছে যে তিনি মুক্তিযোদ্ধা।
সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী নাসরিন মাহমুদ এবং অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার বলেন, সব কিছু জামুকার সদস্যরা করেন। আমরা শুধু শুনানির স্থান নিশ্চিত করি। শুনানি পরিচালনা করেন জামুকার মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তারা।
আছে কিছু গান, যা এখনও মানুষের মনে জায়গা করে রেখেছে। তিনি "মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি" গানের গায়ক। তার আরেকটি জনপ্রিয় গান "তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে"। সংগীতের জন্য, ২০০৫ সালে তিনি একুশে পদক পান।


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ