‘আমার সোনার বাংলা’ যেভাবে জাতীয় সংগীত হলো
'আমার সোনার বাংলা' কিভাবে জাতীয় সংগীত হলো
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর পরে দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনের সময় অনেকের মধ্যে এই গান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিবিসি বাংলাকে এই খবর জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের যুক্তি, রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি বাংলাদেশের সৃষ্টি হওয়ার অনেক আগে লেখা হয়েছিল। অন্যদিকে, সমর্থকদের বক্তব্য, এই গানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। যখন এই দুই দিকের যুক্তি চলছিল, তখন জানা যায় কিভাবে কেন এই গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত হলো। এই প্রতিবেদনে তার কারণ খোঁজা হয়েছে।
‘আমার সোনার বাংলা’ কিভাবে জাতীয় সংগীত হলো
বিভিন্ন বই ও প্রবন্ধে লেখা হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে এই গান লিখেছিলেন। তবে মূল নথিপত্র পাওয়া যায়নি, যা সত্যতা যাচাইয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে। রবীন্দ্রনাথের জীবনীকার প্রশান্তকুমার পাল ১৯৯০ সালে প্রকাশিত ‘রবিজীবনী’ বইয়ে দেখান, এই গান প্রথম ২৫ আগস্ট, ১৯০৫ সালে কলকাতা টাউন হলের অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়।
১৯৭১ পূর্বে, অর্থাৎ তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে, রবীন্দ্রসংগীত হিসেবে এই গান বেশ বেশ কিছু অনুষ্ঠানগুলোতে প্রচলিত ছিল। বিবিসি বাংলাকে এই কথা বলেছেন গবেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ। তবে, এই গানের জাতীয় সংগীত হিসেবে প্রথম ভাবনা তৈরি হয় ১৯৭১ সালে।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, ‘১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণা দেন। তখন ঢাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে আন্দোলন চালায়।’
‘দোসরা মার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলার পতাকা উত্তোলন করে ছাত্রসংস্থা সেটিকে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা বলে ঘোষণা করে। ওই দিনই বিকালে ছাত্রলীগের ভিপি আ.স.ম. আবদুর রব ইকবাল হলে ওই ইশতেহার লেখেন। ওই ইশতেহারেই প্রথমবারের মতো ‘আমার সোনার বাংলা’কে জাতীয় সংগীত হিসেবে মান্য করা হয়।’
ওই ইশতেহার পরের দিন, ৩ মার্চ, পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সভায় পাঠানো হয়। সেখানে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ ও সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালে মারা যান।
নূরে আলম সিদ্দিকি ২০১৬ সালে বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন যে, ‘আমার সোনার বাংলা’ ছাড়া অনেকের পছন্দের ছিল দ্বিজেন্দ্রলালের ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবেনা তুমি।’ তবে এই গানটি শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হয়নি।
ছবির জন্য কোন গানের সঙ্গীতের রেকর্ড থাকা বড় কারণ ছিল। কারণ রেকর্ড ছাড়া এটা নিশ্চিত করা কঠিন যে, কোন সুরে গানটি হবে। তখন অনেক গানের রেকর্ড না থাকায় সংশয় সৃষ্টি হতো।
মহিউদ্দিন আরও বলছিলেন, ‘অনেক সময় আমাদের কাছে কোনও রেকর্ড ছিল না। ১৯৭০ সালে জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রে এই গান ব্যবহার হয়। সেটি ছিল রেকর্ডের একটি উদাহরণ।’
প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত, বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রতিবাদে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি ব্যবহার হয়েছে। গবেষক ও প্রবন্ধে এমন উঠে এসেছে। ২০১৬ সালে অনলাইন পত্রিকা বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর এই বিষয় লিখেছে।
-68257768a1e33.jpg)
-68257649a06d1.jpg)

.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ