Advertisement

সরকারের ভেতরে-বাইরে অস্থিরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে

 


সরকারের মধ্যে এবং বাইরে অস্থিরতা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি দিন দিন তীব্র হচ্ছে। নানা সমস্যা ও দ্বন্দ্ব প্রকাশ পাচ্ছে জোরেসোরে। সরকারের ভিতরে পলিটিক্যাল অস্থিরতা বাড়ছে। এর ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
সরকারের ভেতরে-বাইরে অস্থিরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মূল দলগুলো শুরু থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের রোডম্যাপ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। সরকার অবশ্য এই আবেদনকে গুরুত্ব দেয়নি। বরং, তারা জাতীয় নির্বাচনের তারিখ না জানিয়ে নানা অজুহাতে অল্প বা বেশির সংস্কার দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে জনগণ অন্তর্দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছেন ও অন্ধকারে থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ মিছিল-মিটিংয়ে যোগ দিচ্ছেন। মাত্র ১০ মাসের মধ্যে সরকারের ভেতরে বাইরে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিতে শুরু করেছে। জনগণের ক্ষোভ বোঝার চেষ্টা করতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এই অস্থিরতা যদি বাড়তে থাকে, সরকারের জন্য পরিস্থিতি মোকাবিলা অনেক কঠিন হয়ে যাবে। তাই তারা আরো সতর্ক হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা নিয়ে ভাবা উচিত।

শনিবার রাতে গুলশানের হোটেল লেকশোয় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) ৮ম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে যাতে কেউ ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচার ক্ষমতা নেয়, এর জন্য এখনই গণতন্ত্রের জন্য নতুন পদ্ধতি তৈরি করতে হবে। এখনো কিছু মানুষ মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার সৎ ও ক্ষমতার যোগ্যতা রাখে। তবে, গণতন্ত্রের পক্ষে থাকলে জনগণের ভোটে সরকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন। এই জন্য কিছুদিনের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

তারেক রহমান আরও বলেছেন, নির্বাচন মুক্ত ও স্বচ্ছ করতে সরকারকে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে। না হলে, পতিত স্বৈরাচার ফের আসার আশঙ্কা বাড়বে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা করে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবে। তিনি জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রতিরোধে থাকা দলের সদস্যরা এখনো সরকারের সক্ষমতা নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেননি। তবে, জনগণের মধ্যে এই সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে। জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে কতজন শহীদ হন, কতজন আহত হন, তা অন্তর্বর্তী সরকার এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি।

তিনি বলেন, সরকারের দর্শন অনুযায়ী, আগস্টের হতাহতদের তালিকা কম গুরুত্ব পাচ্ছে। বরং, করিডর বা বন্দরের বিষয়গুলো বড় করে দেখা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত সরকার নয়, সেটি ভোটে নির্বাচিত সংসদ করবে। আইনি দিক থেকে কিছু সমস্যা থাকলেও, দেশের দায়িত্বে থাকা সরকার কখনোই জনগণের সত্যিকার জবাবদিহি করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, এনবিআর সংস্কার নিয়ে মতভিন্নতা নেই। কিন্তু, দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা না করে বড় গরমে সংস্কার শুরু করায় ক্ষতি হয়েছে। এতে রাজস্ব সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। দেশের বিনিয়োগের হাল ভালো নয়। সরকার বড় বড় সম্মেলন করে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসছে না। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য স্থিরতা ও সরকার প্রয়োজন। উন্নয়ন জন্য নিশ্চয়ই ভোটের মাধ্যমে জবাবদিহি মূলক সরকার দরকার।

তারেক রহমান জানান, সরকার কোনো ধনী ক্লাব বা কর্পোরেট সংগঠন না। সরকারের উচিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। দেশের নাগরিকেরা যেন সরাসরি অংশ নেয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক শক্তি উপেক্ষা করলে ব্যক্তিরা লাভবান হতে পারেন। কিন্তু, জনগণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিরাজনীতিকরণ নয়। বরং, গণতান্ত্রিক নিয়ম ও সংবিধানকে শক্তিশালী করতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ