Advertisement

ট্রাস্প দায় চাপালেন বাইডেনের ওপর

ট্রাস্প দায় চাপালেন বাইডেনের ওপর 

       ট্রাম্প দায় চাপালেন বাইডেনের ওপর:    https://shadhinbangla202.blogspot.com/আমদানি বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার পেছনের কারণগুলো

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ২০২৩ সালের প্রথম তিন মাসে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। একদিকে, আমদানির বিস্তৃতি দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে, এই বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সংকুচিত হওয়ার সম্পর্ক দৃশ্যমান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাবের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন নানা বিশ্লেষক। আজ আমরা দেখব কেন এই আমদানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বর্তমানে অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাগুলি একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ২০২৩ সালের প্রথম তিন মাসে আমদানির পরিমাণ প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে একটাই প্রশ্ন উঠে আসে— কি কারণে এই বৃদ্ধির জন্য দায় দেওয়া হচ্ছে ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনাকে? অনেকের মতে, এই নীতিমালা দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত উন্নত করার জন্য ছিল, কিন্তু বাস্তবে কি তা কাজ করেছে?

প্রথম দিকের শুল্ক নীতির মূল লক্ষ ছিল দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা ও বিদেশি প্রতিযোগিতাকে ঠেকানো। ২০১৮ সালে ট্রাম্প সরকার ভারী শুল্ক আরোপ শুরু করে। এর মাধ্যমে চীনসহ অন্যান্য দেশের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। মূল ভাবনা ছিল, আমদানি কমিয়ে দেশের উৎপাদন বাড়ানো। অনেকেই মনে করেন, এই পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ায় কিছুটা সুফল পেয়েছিল মার্কিন ব্যবসায়ীরা, কিন্তু এর দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব কী?

শুল্ক বাড়ালে বিকল্প হিসেবে অনেক আমদানিকারক নতুন বাজার খুঁজে নেয়। বড় আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা বাড়তি শুল্কের কারণে অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে শুরু করে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে যায়। এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা আরও বেশি বিনিয়োগ করে, কিন্তু এর ফল কী দাঁড়ায়? অর্থনীতি কি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, না শিল্পের গতি বাড়ছে?

শুল্কের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ওঠে দেশীয় শিল্পের বিকাশ আর প্রতিযোগিতার উপর। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নীতির কারণে দেশীয় ভোক্তা বেশি ব্যয় করছে। সরকারও মনে করে, এই নীতি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতার জন্য জরুরি। তবে, এর প্রয়োগে অনেক সময় ক্ষতি হয়, কারণ বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরী হয়।

আমদানি বৃদ্ধির অর্থনৈতিক ফলাফল: সংকোচনের দিকে ধাবিত যুক্তরাষ্ট্র

প্রথম তিন মাসে অর্থনীতির পরিবর্তন ও চিত্র

প্রথমত, সাম্প্রতিক GDP ডেটা দেখায় অর্থনীতির ধীরগতি। এর পাশাপাশি, চাকরির সংখ্যা কমে গেছে। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আমদানি বাড়ার সঙ্গে মূল অর্থনৈতিক সংকোচনের সম্পর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, দেশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উৎপাদন কমে যাচ্ছে। শ্রমবাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রিও ধীরগতি দেখাচ্ছে। ভোক্তা ব্যয় অনেক বেড়েছে, কারণ আমদানির পণ্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, সাময়িক সুবিধা হলেও দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতি দেখা যায়, যেমন অপ্রতুল উৎপাদনশীলতা ও চাকরি কমে যাওয়া।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই আমদানির বৃদ্ধির ধারায় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ ঝুঁকিপূর্ণ। তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতি আসলে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। সরকার অবশ্য বলছে, এই চাপ সাময়িক, উন্নতির জন্য পথ সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র কি বলে?

বাইডেনের নীতির জন্য দায় চাপানো: ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব কি সত্যিই দায়ি?

বাইডেন সরকার শুল্ক কমানোর চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের কড়া নীতির পরিবর্তে এখন তারা বৈষম্য কমানোর দিকে নজর দিচ্ছে। নতুন নীতি বলছে, দেশের স্বার্থরক্ষায় শুল্ক ব্যবস্থার নমনীয়তা দরকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পরিবর্তন দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।

অন্যরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব এখনও টিকে আছে। সেই নীতিগুলি অনেক কিছু পরিবর্তন করেছে। কখনো কখনো, রাজনৈতিক কারণে এই বিষয়টি বেশি আলোচনায় আসে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় ট্রাম্পের নীতিও এক ধরনের রুক্ষ পথ দেখিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

চীন ও ইউরোপের জন্য এই পরিস্থিতি নতুন নয়। তাদেরও শুল্ক যুদ্ধের ফলে শুরুতে ক্ষতি হয়েছিল। তবে পরে তারা নতুন ট্রেড চুক্তি করে পরিস্থিতি সামলে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রও এ ধরনের সহযোগিতা ও সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।

দেশের জন্য দরকার, আমদানির নিয়ন্ত্রণে কিছু পরিবর্তন। মুক্ত বাণিজ্য ও নতুন বাণিজ্য চুক্তি বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে হলে, বিদেশি পণ্য নয়, উত্পাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

নতুন শুল্কনীতি, যেমন ডিজিটাল ট্যাক্স, আরও কার্যকর হতে পারে। ব্যাবসায়ী ও সরকারের একত্রে কাজ করে বিষয়গুলো সামাল দেওয়ায় লাভ। আন্তর্জাতিকভাবে সহযোগিতা বাড়ালে বাণিজ্য যুদ্ধ কমানো সম্ভব হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের জন্য দরকার নতুন নীতির সাথে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। আরও প্রস্তুতি নিয়ে যেন তারা এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে। সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠন একসঙ্গে কাজ করে নিরাপদ বাণিজ্য গড়ে তুলতে পারে।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব এখনো দেশের অর্থনীতির ওপর অনুভূত হচ্ছে। আমদানি বৃদ্ধির জন্য দায় ছাপানো হলেও, অর্থনীতির সংকোচনের জন্য নানা কারণ কাজ করছে। এগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজন স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য নীতি। ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এই পথে চললে দেশের জনজীবনে শান্তি ও উন্নয়ন আসবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ