Advertisement

লুৎফুজ্জামান বাবরের খালাসের খবরে নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল অনুষ্ঠিত

 

বাবরের খালাসের খবর এবং প্রতিক্রিয়া

লুৎফুজ্জামান বাবরের খালাসের খবর প্রকাশ হওয়ার পর নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত জেলা শহর ও খালাস পাওয়ার পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা এই মিছিল আয়োজন করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বাবরের সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন এবং তার মুক্তি উদযাপন করেন।

এদিন জেলা যুবদলের সাবেক ১ নম্বর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে শুরু হয় মিছিল। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। সন্ধ্যা সাতটায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে শহরের কুড়পাড় থেকে বের হওয়া আরেকটি মিছিল ছোট বাজার এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মিষ্টিমুখ করানো হয়।

আইনসঙ্গত প্রেক্ষাপট

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার গুরুত্ব অপরিসীম এবং এটি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে ধরা হয়। এই মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরকে অস্ত্র আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে ফাঁসির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। শনিবার আদালতের রায়ে বাবরকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে, যা অদ্যাবধি ন্যায়বিচারের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাবরের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতের রায়ের পর বলেন, 'আদালত বলেছেন, আজ একটি অ্যাডভান্স অর্ডার সই করে দেবেন। আশা করি, আজ এই আদেশ পৌঁছানো হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি মুক্তি পাবেন।'

বাবরের রাজনৈতিক ইতিহাস

লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরি) আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির সরকারের সময় তিনি সফল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, যেখানে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচুর মানুষকে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।

আগামীদিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি

লুৎফুজ্জামান বাবরের মুক্তির ফলে নেত্রকোনার রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই খালাসের ফলে একটি নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। নেত্রকোনার বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আইনি বক্তব্যগুলোর প্রভাবে সম্মিলিতভাবে আগামী নির্বাচনে তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রস্তুত।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, শক্তিশালী ও সংগঠিতভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ববরের মুক্তির ঘটনাটি দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন আশা এবং আস্থা ফিরিয়ে দিতে পারে, যা দলের সামনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবেলায় সাহায্য করতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ