Advertisement

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ অনুমোদন

 

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত


## ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের জন্য দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন

উপদেষ্টা পরিষদ **‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’** অনুমোদন দিয়েছে, যা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে **ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের লক্ষ্যে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানে** অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি প্রদান করবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সভায় এই ঐতিহাসিক অধ্যাদেশ পাস হয়।

### কী আছে এই অধ্যাদেশে?

আইন উপদেষ্টা **আসিফ নজরুল** এর মতে, এই অধ্যাদেশ সরকারের একটি **ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন**। মূল বিধানগুলো হলো:

*   **২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট** পর্যন্ত সময়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ফৌজদারি দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

*   এই সময়ের মধ্যে **রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে** সংঘটিত কার্যক্রমের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো সরকার প্রত্যাহার করবে।

*   একই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য ভবিষ্যতে **কোনো নতুন মামলাও দায়ের করা যাবে না**।

> “ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো যাবে না।” – আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

### দায়মুক্তির সীমাবদ্ধতা ও মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা

তবে, এই **দায়মুক্তি সর্বত্র প্রযোজ্য হবে না**। আইন উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন যে, **রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ বা প্রতিশোধের জন্য সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতা** এই সুরক্ষার আওতায় পড়বে না। এসব ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

**এখানেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন**:

*   কোন ঘটনা **রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ** আর কোনটি **ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত**, তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিশনকে।

*   ভুক্তভোগীরা যদি মনে করেন তাদের স্বজনের মৃত্যু ব্যক্তিগত কারণেঘটেছে, তবে তারা **মানবাধিকার কমিশনে** আবেদন করতে পারবেন।

*   কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য হবে।

*   কমিশন **আর্থিক ক্ষতিপূরণের**ও সুপারিশ করতে পারবে।


> **সম্পর্কিত পড়ুন:** [জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা ও ভূমিকা নিয়ে আমাদের বিশ্লেষণ](https://shadhinbangla202.blogspot.com/human-rights-commission-role)


### প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পদক্ষেপ

আইন উপদেষ্টা জানান, **পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে** এ ধরনের দায়মুক্তি বিধান রয়েছে। বাংলাদেশের **সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদেও** এ ধরনের আইন প্রণয়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।


ইতিমধ্যে, **গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা প্রায় ২০ হাজার মামলা** প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মামলা খতিয়ে দেখতে **স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে একটি বিশেষ সেল** গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


**নতুন ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন**, যা আগামী **৩১ জানুয়ারির মধ্যে** গঠিত হবে, এই প্রক্রিয়ায় একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।



**জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি** দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত দেশের **রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও জাতীয় সমঝোতার** প্রক্রিয়ায় একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। তবে, **দায়মুক্তির সীমা** যাতে কেউ অতিক্রম করতে না পারে এবং **ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়**, সে লক্ষ্যে **মানবাধিকার কমিশনের শক্তিশালী ভূমিকা** অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


> **গবেষণামূলক পড়া:** [বিশ্ব ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকট ব্যবস্থাপনা](https://www.yoursite.com/post-revolution-transition)


এই অধ্যাদেশের সফল বাস্তবায়ন **একটি কলঙ্কিত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি** এবং **সুবিচারভিত্তিক নতুন যুগের সূচনা** হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


 **হ্যাশট্যাগ:**

#জুলাই_গণঅভ্যুত্থান #দায়মুক্তি_অধ্যাদেশ #আসিফ_নজরুল #জাতীয়_মানবাধিকার_কমিশন #বাংলাদেশ_রাজনীতি #গণতন্ত্র_পুনরুদ্ধার #ইউনূস_সরকার #ফ্যাসিবাদ_বিরোধী_আন্দোলন #বাংলাদেশ_সংবিধান #রাজনৈতিক_মামলা_প্রত্যাহার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ